শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কী ঘটেছিল সেই শবে বরাতের রাতে

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:২৮

২০১১ সালের ১৭ জুলাই। রাতটি ছিল শবে বরাতের। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা যখন আল্লাহর এবাদতে ব্যস্ত ঠিক তখনই সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি গ্রামের কেবলার চরে ঘটে নারকীয় হত্যাকাণ্ড। সেই রাতে ৭ বন্ধু মিলে বেড়াতে এসেছিলেন বড়দেশি গ্রামের তুরাগ নদীর তীরে কেবলার চরে। রাত সোয়া ১টার দিকে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী ও দুর্বৃত্তরা স্থানীয় মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত’ বলে ঘোষণা দিয়ে ৬ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করে।

এরপর লাশগুলো চরে ফেলে রাখে।  পরদিন সকালে সাভার মডেল থানা পুলিশ ডাকাত পরিচয়েই ৬ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তাদের পরিচয় শনাক্তের আগেই বড়দেশি গ্রামের বালু ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বাদি হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয় নিহত ৬ ছাত্রকে। কিন্তু ওই রাতের হত্যাকাণ্ড থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া আল-আমিনের বক্তব্যে বেরিয়ে আসে হত্যার মূল ঘটনা। বাদি আব্দুল মালেকই তখন হয়ে যান হত্যা মামলার আসামি। এরপর একের পর এক ঘটনা সামনে আসতে থাকে।  

সেই রাতের প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই জানান, ৬ ছাত্র নৌকায় নদী পার হয়ে বড়দেশি গ্রামের কেবলার চরে আসা মাত্রই তাদের জিজ্ঞাসা করা হয় তারা কোথায় যাবে। কিন্তু তারা এসব গ্রামের নাম না জানায় তেমন সদুত্তর দিতে পারেনি। এই অপরাধেই তাদের ‘ডাকাত’ বলে চিহ্নিত করে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী ও দুর্বৃত্তরা। তারা মাইকে ‘ডাকাত’ বলে ঘোষণা দিয়ে ৬ ছাত্রকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। এ সময় আল আমিন নামের তাদরে এক বন্ধু দৌড়ে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন। পরদিন সকালে পুলিশ ওই ৬ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে। 

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নিজে বাঁচার জন্য আব্দুল মালেক নিহত ৬ ছাত্রের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা করেন। সাক্ষাতকারে সে সময় মালেক জানিয়েছিল, এসব ছেলেরা নাকি নেশা করতে কেবলার চরে এসেছিল। কিন্তু খবরটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর দুপুরের দিকে ৬ ছাত্রের পরিচয় শনাক্ত হয়। পাল্টে যায় দৃশ্যপট।

পরে জানা যায় নিহতরা কেউ ডাকাত নয়, তারা সবাই কলেজছাত্র। তারা ছিল ধানমন্ডির ম্যাপললিফ স্কুলের ‘এ’লেভেলের ছাত্র শামস রহিম শাম্মাম, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল, বাংলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমান পলাশ, তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র টিপু সুলতান, মিরপুরের বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সিতাব জাবীর মুনিব এবং বাংলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র কামরুজ্জামান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলার মোট আসামি ছিল ৬০ জন। তাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন, পলাতক ১২ জন। রায় ঘোষণা উপলক্ষে কারাগারে থাকা ৪৫ আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলায় ২০১৩ সালের ৮ জুলাই ৬০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ৫৫ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর।

সচেতন মহলের দাবি, হামলায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ লোকই মাদক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

সাভার থানা সূত্রে জানা গেছে, ছয় ছাত্রকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ বাদি হয়ে সাভার থানায় একটি মামলা করে। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটি র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি র্যাব ৬০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে সাক্ষী করা হয় ৯২ জনকে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইসমত জাহান রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই ঘটনায় ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

 

 

 

ইত্তেফাক/ইউবি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সাভারে দুটি অনিবন্ধিত হাসপাতাল সিলগালা

প্রেমিকের সহায়তায় পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণ, প্রেমিক গ্রেফতার

সাভারে ৩ শতাধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন 

আশুলিয়ায় নিখোঁজে শিশুর লাশ উদ্ধার

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সিরাজগঞ্জে স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

সাভারে পোশাক কারখানায় মেশিন চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু

সাভারে কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রতিযোগিতা পরিদর্শনে সেনাপ্রধান