যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০৩

বাংলাদেশের হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের উত্তম জায়গা। 

বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের (অ্যামচেম) ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদের সভাপতিত্বে এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা অনেক। আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পালন করছি। অ্যামচেম ২৫ বছর পালন করছে। এতেই বোঝা যায় আমাদের বন্ধুত্বের অবস্থান শক্তিশালী। তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, বেশকিছু খাত রয়েছে যেগুলোতে বিনিয়োগ করে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে। নদীখনন ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে বিনিয়োগ করা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারবেন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী। বাংলাদেশে মোট বিনিয়োগের ২০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির অগ্রাধিকার রয়েছে মূলত জ্বালানি খাতে। এখানে দক্ষ জনশক্তি রয়েছে এমন অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগ বাড়াতে পারে।  

তিনি বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশে শুল্কবাধার কথা তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকৃত তুলা থেকে সূতা তেরি করে তা দিয়ে সেদেশে রফতানি করলে শুল্কমুক্ত সুবিধা চালুর দাবি জানান। তাতে দুইদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করে আব্দুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের পক্ষে রোহিঙ্গাদের বোঝা বহন করা কঠিন হয়ে উঠছে। করোনাকালীন সময়েও মিলিয়ন মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভ্যাকসিনের সময় বিভিন্ন দেশে যেভাবে আমরা হণ্যে হয়ে হাত পাতছিলাম, সেই কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতি তার বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তখন ৫৫ লাখ টিকা দিয়েছিল। তারপর বাংলাদেশকে বিনামূল্যে আরও ২ কোটি ৯০ লাখ টিকা প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অব্যাহত সহযোগিতার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।  

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন অনেক শক্তিশালী। যদিও করজিডিপির অনুপাত বিশ্বে সর্বনিম্নে। এটি বাড়াতে হবে। গতিশীল শেয়ারবাজার রয়েছে। এখন বন্ড মার্কেট নিয়ে কাজ করতে হবে। 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার, অ্যামচেমের সাবেক সভাপতি আফতাব উল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, ফরেস্ট ই কুকসন প্রমূখ বক্তৃতা করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ধারাবাহিক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এখন আন্তর্জাতিক গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড অর্জনের সক্ষমতা রয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের বিনিয়োগ প্রাধাণ্য নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাং, কোকাকোলা বাংলাদেশ, সিটি ব্যাংক এনএ, বাংলাট্র্যাক, শেভরন, এনার্জিপ্যাক, লিডস কর্পোরেশন, মাস্টারকার্ড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মেটলাইফ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও থেরাপ বিডি লিমিটেড। 

ইত্তেফাক/কেকে