ভারত ও বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল ভুবন বাদ্যকরের ‘বাদাম বাদাম, দাদা কাঁচা বাদাম, আমার কাছে নাই গো বুবু ভাজা বাদাম’ গানটি। উপমহাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই গান এখন বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মুখে মুখে।
ভারতের বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের অন্তর্গত লক্ষ্মীনারায়ণপুর পঞ্চায়েতের কুড়ালজুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ভাইরাল ‘কাঁচা বাদাম’ গানের স্রষ্টার নাম ভুবন বাদ্যকর। ভুবন বাদাম বিক্রি করেন, ভাজা বাদাম নয়, কাঁচা বাদাম। ভাজা বাদামের অপকারিতা আর কাঁচা বাদামের উপকারিতা নিয়ে একটি গান বেঁধেছেন তিনি। এই গানের কথা যুক্ত হয়েছে টাকা ছাড়াও কিসের বিনিময়ে বাদাম বিক্রি করেন, যেমন ভাঙা মোবাইল, সিটি গোল্ডের পুরনো জিনিস, মাথার চুল ইত্যাদি। গানের কথায় এসব আর অদ্ভুত সুর তরুণরা ইন্টারনেটে পাওয়া মাত্রই লুফে নেয়।
তার সৃষ্টি ‘কাঁচা বাদাম’ গেয়ে নেটমাধ্যমে মানুষ বাহবা কুড়ালেও ভুবন এখন পড়েছেন আজব সমস্যায়। কারণ নেটমাধ্যমে অনেকেই তার গানটি গাইলেও কৃতজ্ঞতা স্বীকারেও থাকছে না তার নাম।
ভুবনের অভিযোগ, এই গান নেচে-গেয়ে অনেকেই লাখ লাখ টাকা রোজগার করে ফেলছেন। কিন্তু তার হাত খালি। এ নিয়ে দুবরাজপুর থানায় ‘কাঁচা বাদাম’র স্রষ্টা ভুবন অভিযোগ জানিয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
তিনি বলেন, গানটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রচুর মানুষ বাড়িতে ভিড় করছেন। সবাই আমার গান ভিডিও করতে চান। তার পর সেই গান নেটমাধ্যমে ছেড়ে অনেক টাকা আয়ও করছেন। অথচ আমার হাত খালি।
ইউটিউবে তার গানের স্বত্ব ‘সংরক্ষিত’ হিসাবে দেখাচ্ছে। অথচ ভুবন বলছেন, ‘আমার কোনো ইউটিউব অ্যাকাউন্টই নেই!’ ভুবনের দাবি, পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করে প্রাপ্য টাকা তাকে পাইয়ে দিক।
এদিকে, কাঁচা গান জনপ্রিয় হওয়ায় রীতিমতো খ্যাতির বিড়ম্বনায় পড়েছেন ভুবন। রাস্তায় বেরোলেই অনেকেই ছুটে এসে ছবি তোলার আবদার করছেন। এই কারণে শুক্রবার থানায় যাওয়ার সময় মাথায় হেলমেট পরে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ভুবনের সন্দেহ, কেউ তাকে অপহরণ করতে পারে। থানায় পৌঁছেও জনপ্রিয়তার মাসুল গুনতে হয়েছে তাকে। সেখানেও অনেকেই ভুবনকে চিনতে পেরে ছবি তোলার আবদার করেন। হাসিমুখে অবশ্য সে আবদার মেটান ভুবন বাদ্যকর।
