সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

যেসব কারণে শহর ছাড়ছে মানুষ

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:৪২

করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে জটিল হয়ে ওঠে রাজধানীতে কর্মজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা। তারা অপেক্ষায় ছিলেন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদেরও সংকট কেটে যাবে। কিন্তু না। এই কর্মজীবী-নিম্নআয়ের মানুষেরা বলছেন, সম্প্রতি দেশে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ভাড়াও বেড়েছে। ফলে বাসা-বাড়ি থেকে কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার খরচ বেড়েছে বহুগুণ। এরফলে আগে যেখানে ৬০ ভাড়ায় আসা-যাওয়া করা যেতো, এখন সেখানে গুনতে হচ্ছে ৭৫ টাকা। এছাড়া পরিবহণ ভাড়া বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। এই অতিরিক্ত খরচের ভারে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে কেউ কেউ নিজে রাজধানীতে মেসে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে  স্ত্রী-সন্তানদের পাঠিয়ে দিচ্ছেন গ্রামের বাড়ি। আবার কেউ কেউ  রাজধানীর সঙ্গে কর্মজীবনের ইতি টেনে গ্রামমুখী হচ্ছেন।

স্বল্প আয়ের কর্মজীবী আব্দুল বাতেন। ৩ সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করেন রাজধানীর ডেমরা এলকায়।  চাকরি করেন ফকিরাপুলের একটি ফার্নিচার দোকানে। ডেমরা থেকে দুই বার বাস বদল করে আগে আসা-যাওয়ায় খরচ হতো ৬০ টাকা। সম্প্রতি দেশে ডিজেলে দাম বাড়ায় এখন বাসভাড়া গুনতে হয় ৭৫ টাকা। আগে বাস ভাড়াবাবদ তার মাসে খরচ পড়তো  ১ হাজার ৮০০ টাকা। এখন ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ২৫০ টাকা হয়েছে। বেড়েছে নিত্যপণ্যের দামও। ফলে তার জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। এ কারণে তিনি সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। খরচ কমাতে বাধ্য হয়ে পরিবারে সদস্যদের তিনি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। 

আয়-ব্যয়ের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা ছাড়ছে মানুষ

শহর ছাড়ছেন কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বিষেয়ে ইত্তেফাক অনলাইনকে আব্দুল বাতেন বলেন ‘দেশে বাসভাড়া বাড়লো। বাজারে সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, চাল, ডালসহ সব কিছুর খরচ বাড়লো। কিন্তু আমার আয় তো বাড়লো না। মালিককে বেতন বাড়ানোর কথা বলতে গেলে ছাঁটাইয়ের মুখে পড়তে হবে। তাই সরকার আমাদের বেতন নির্ধারণ করে না দিলে আমাদের মতো মানুষের বেতন বাড়বে না।পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছে। একদিন আমাকেও চলে যেতে হবে।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে ৬২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছে। আয় কমে যাওয়ায় ৫২ শতাংশ মানুষ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। আবার অনেকের ঋণ বেড়েছে। কেউ কেউ সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দরিদ্র মানুষের আয়-ব্যয়ের ব্যবধান বেড়েছে।’

পিরোজ থেকে ঢাকায় এসে ব্যাটারির ব্যবসা করতেন মোবারক হোসেন। জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করতে না পেরে তিনিও চলে যাচ্ছেন গ্রামে। জানতে চাইলে বললেন, ‘ঢাকায় ব্যাটারির ব্যবসা করতাম। ব্যবসা মন্দা। আয় কমে গেছে। জিনিসপত্রর দাম বেশি। আর কুলাতে পারছি না। তাই পরিবার নিয়ে পিরোজপুরের গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছি।’

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) যৌথ জরিপে বলা হয়েছে, দেশে করোনাকালে তিন কোটি ২৪ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। গত ছয় মাসে ৭৯ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছে। করোনাকালে দারিদ্র্যের কারণে ২৮ শতাংশ মানুষ শহর থেকে গ্রামে চলে গেছে। শহর অঞ্চলের মানুষের আয় কোভিডপূর্ব সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। গ্রামাঞ্চলে এ আয় কমেছে ১২ শতাংশ।

আয়-ব্যয়ের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা ছাড়ছে মানুষ

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২০ অনুযায়ী, দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্য বেড়েছে ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। দেশে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির এই ধারা চলতি বছর আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘বাজারে এমনিতেই নিত্যপণ্যের দামে আগুন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এখন দাবানলে পরিণত হচ্ছে। বাস ভাড়া ও লঞ্চের ভাড়া বেড়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। এতে যে যেভাবে পেরেছে, পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।’

ইত্তেফাক/এনই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

'অনুশীলন টাইগার লাইটনিং ৩'-এর পরিকল্পনাবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

অতিরিক্ত আইজিপি হচ্ছেন মনিরুলসহ ৭ কর্মকর্তা

সংসদের ১৬তম অধিবেশন আবারও বসছে কাল 

কাল থেকে ভার্চুয়ালিও চলবে সব অধস্তন আদালত 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

র‍্যাব নিষিদ্ধে ১২ মানবাধিকার সংস্থার আবেদন খতিয়ে দেখবে জাতিসংঘ

স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সংক্রমণে ঊর্ধ্বগতি

আসছে বৃষ্টি, চলছে শৈত্যপ্রবাহ