তিস্তাকে ঘিরে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা খরার মতো দুর্যোগ মোকাবিলাসহ পাল্টে যাবে তিস্তা তীরবর্তী লাখো মানুষের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট। প্রকল্পের আওতায় তিস্তার দুইপাড়ে গাইড বাঁধ নির্মাণসহ গড়ে উঠবে আধুনিক শহর ও পর্যটন কেন্দ্র ।
শনিবার (৪ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে তিস্তা সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও লালমনিরহাটে তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এনামুল হক শামীম আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সবসময় উত্তরবঙ্গকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর হাত ধরেই দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে গঙ্গা চুক্তি হয়েছে। তিস্তা চুক্তিও হবে, ইনশাআল্লাহ। তাই তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে 'তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট এন্ড রেস্টোরেশন' প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার । যা বাস্তবায়ন হলে নদীর দুই পাড়ে নির্মাণ হবে ২শ ২০ কিলোমিটার গাইড বাঁধ। বাঁধের দুই পাশে থাকবে মেরিন ড্রাইভ।
উপমন্ত্রী আরও বলেন, স্যাটেলাইট শহর ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলাসহ খনন করা হবে তিস্তা নদী ও চর। ফলে প্রতি বছর ২০ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে হাজার হাজার বাড়িঘর। তাহলে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা থাকবে না। এই অঞ্চলে ফসলের যাতে বাম্পার ফলন হয় সেজন্য কাজ করছে সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হরে মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। তিস্তা নদীর যে ভয়াবহ ভাঙন সেটা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এছাড়া প্রকল্পটির আওতায় স্থাপন করা হবে দেড়শ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেচ প্রকল্প ও আধুনিক কৃষি খামার। যেখানে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে ।
এসময় তার সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চল প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানসহ নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপরে রংপুরে উপমন্ত্রী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
