সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে গোটা বিশ্ব দুটি শিবিরে বিভক্ত

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:১৭

বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তর সেদিনও ছিল উত্তপ্ত। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে গোটা বিশ্ব দুটি শিবিরে ভাগ হয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখতে পাচ্ছিলেন। আগের দিন নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব আনার প্রেক্ষাপটে ৫ ডিসেম্বর’ ৭১ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন করে সোভিয়েত ইউনিয়ন।

প্রস্তাবে বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তানে এমন এক রাজনৈতিক নিষ্পত্তি প্রয়োজন, যার অবশ্যম্ভাবী ফল হিসেবে বর্তমান সংঘর্ষের অবসান ঘটবে। এ প্রস্তাবে পোল্যান্ড সমর্থন দেয়। যথারীতি ভেটো দেয় চীন। অন্যরা বিরত থাকে ভোটদানে। এ সময় জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি হুয়াং হুয়া জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের উচিত পাকিস্তানের ওপর ভারতীয় হামলার তীব্র নিন্দা করা। তিনি পাকিস্তান থেকে অবিলম্বে বিনা শর্তে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। চীনা প্রতিনিধি বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের যৌক্তিক প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান ও অস্বীকার করেন। তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি ইঙ্গিত করে জোর দিয়ে বলেন, ভারত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের সমর্থনপুষ্ট হয়ে আগ্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে।

এদিনই চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই ভারতীয় হামলার মুখে পাকিস্তানকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তপ্ত অবস্থা চিন্তিত করে তোলে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারকে। কারণ, এদিনও ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। এদিকে, ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব শ্রী কেবি লাল বাংলাদেশ একটি বাস্তবতা বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার বলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক এ পরিস্থিতি মুক্তিযোদ্ধাদের যাতে দুর্বল না করে তোলে তাই তাদের মনোবল বাড়াতে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কর্নেল ওসমানী জাতির উদ্দেশ্যে বেতারে ভাষণ প্রদান করেন। এদিকে, ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর ‘পূর্ব পাকিস্তান’-এর পুতুল শাসক গভর্নর ডা. মালিক দেশবাসীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানান। তিনি বলেন, দেশ আক্রান্ত। ভারতীয়দের সহযোগিতায় কিছু বিশ্বাসঘাতক দেশ আক্রমণ করেছে। এ দেশের সেনাবাহিনী তাদের প্রতিরোধ করছে। তাদের সাহায্য করার জন্য প্রতিরক্ষা তহবিল করা হয়েছে। সে তহবিলে মুক্তহস্তে সাহায্য করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। তার আহ্বানে কেউ যে এগিয়ে আসেনি তা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। সম্মুখযুদ্ধ শুরুর তৃতীয় দিনেই স্বাধীন বাংলার আকাশ শত্রুমুক্ত হতে শুরু করে। যৌথবাহিনীর কাছে বিপর্যস্ত হতে থাকায় জেনারেল নিয়াজি পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সীমান্ত অঞ্চল ছেড়ে শহরভিত্তিক স্ট্রং পয়েন্ট তৈরির নির্দেশ দেন।

একাত্তরের এই দিনে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশে পাকবাহিনীর প্রায় সব বিমান। ভারতীয় জঙ্গি বিমানগুলো সারা দিন ধরে অবাধে আকাশে উড়ে পাক সামরিক ঘাঁটিগুলোতে প্রচণ্ড আক্রমণ চালায়, অকেজো করে দেয় বিমানবন্দরগুলো। ভারতের বিমানবাহিনীর হিসাব মতে ১২ ঘণ্টায় ২৩২ বারে তেজগাঁও এবং কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে ৫০ টনের মতো বোমা ফেলা হয়। পাকবাহিনীর কনভয়ের ওপর ভারতীয় জঙ্গি বিমানগুলি আক্রমণ চালায়। এতে পাকবাহিনীর ৯০টা গাড়ি ধ্বংস হয়। এছাড়া পাকবাহিনীর সৈন্য বোঝাই কয়েকটা লঞ্চ এবং স্টিমার ধ্বংস হয়। সাবমেরিন ‘পিএন গাজী’ ছিল পাক নৌবহরের গর্বের বস্তু। বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনীর যৌথ কমান্ডের সফল আক্রমণে তা ধ্বংস হয়। সাবমেরিনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হতে পাকিস্তান ধার হিসাবে পেয়েছিল। একাত্তরের এই দিনে নৌবাহিনীর যৌথ কমান্ড চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের সব নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের জাহাজগুলোকে বন্দর ত্যাগের পরামর্শ দেয়। তারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতেও তাদের অপারগতা প্রকাশ করে। বিশ্বের সব দেশ বুঝতে পারে বাংলাদেশের বন্দরগুলো রক্ষা করার ক্ষমতা আর পাক বাহিনীর নেই। এদিকে, লে. আরেফিনের নেতৃত্বে চালনা নৌ বন্দরে বড় ধরনের আক্রমণ পরিচালিত হয়। এই যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনীসহ সব সৈন্য বন্দর ত্যাগ করে। কোস্টাল গানসহ প্রচুর গোলাবারুদ হস্তগত হয় মুক্তিবাহিনীর।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

'অনুশীলন টাইগার লাইটনিং ৩'-এর পরিকল্পনাবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

অতিরিক্ত আইজিপি হচ্ছেন মনিরুলসহ ৭ কর্মকর্তা

সংসদের ১৬তম অধিবেশন আবারও বসছে কাল 

কাল থেকে ভার্চুয়ালিও চলবে সব অধস্তন আদালত 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

র‍্যাব নিষিদ্ধে ১২ মানবাধিকার সংস্থার আবেদন খতিয়ে দেখবে জাতিসংঘ

স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সংক্রমণে ঊর্ধ্বগতি

আসছে বৃষ্টি, চলছে শৈত্যপ্রবাহ 

২০২০-২১ সালে বিপিএম-পিপিএম পদক পাচ্ছেন ২৩০ পুলিশ সদস্য