বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

মায়ের পরকীয়ার বলি শিশু শিহাব

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১৪:৩৭

চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের প্রবাসী তোয়াজ উদ্দীনের শিশুপুত্র শিহাব হত্যার ছয় বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঝিনাইদহ পিবিআই। তদন্তে বের হয়ে এসেছে মায়ের পরকীয়ার বলি হয় আট বছরের শিশু শিহাব। পিবিআই এ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের গ্রেফতার করেছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলাটি থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডির হাত ঘুরে পিবিআইর হাতে আসে।

ঝিনাইদহ পিবিআইর পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের প্রবাসী তোয়াজ উদ্দীনের শিশু সন্তান শিহাব নিখোঁজ হয়। দুই দিন পর ৩০ অক্টোবর শিহাবের লাশ পাওয়া যায় পার্শ্ববর্তী শিবপুর গ্রামের ওসমান আলীর জমিতে। এ ঘটনায় নিহতের মা বিলকিস খাতুন প্রেমিক জমির উদ্দীন পিন্টুর ইন্ধনে ছয় জনকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করে। পরে চুয়াডাঙ্গার ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সর্বশেষ পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করে। সিআইডি শিহাব হত্যার প্রধান আসামি লাল্টুকে বাদ দিয়ে আদালতে নিহতের চাচাতো ভগ্নীপতি ঘাতক পিন্টুকে আসামি করে ত্রুটিপূর্ণ ও দায়সারা চার্জশিট প্রদান করে। পরকীয়া প্রেমিককে রক্ষা করতে এই চার্জশিটের বিরুদ্ধে বাদী বিলকিস খাতুন আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন। আর এতেই কপাল পোড়ে পিন্টুসহ অন্য আসামিদের। চুয়াডাঙ্গার একটি আদালত মামলাটি নতুনভাবে তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ পিবিআইকে নির্দেশ দেন। ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের এসআই তহিদুল ইসলাম মামলাটির তদন্তভার নিয়ে হত্যার মোটিভ ও ক্লু উদ্ধারের পর প্রধান আসামি ও তার সহায়তাকারীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। দায় স্বীকার করে আসামি লাল্টু ও নয়ন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন শিহাব বাড়ির পাশে ইমরানের দোকানে মিষ্টি কিনতে যায়। ফেরার পথে কিশোর আসামি নয়ন শিশু শিহাবকে তার চাচাতো ভগ্নীপতি জমির উদ্দীন পিন্টুর কাছে নিয়ে যায়। সাবেক চরমপন্থি ক্যাডার পিন্টু নয়নকে ৫০০ টাকা দিয়ে শিহাবের বিষয়ে কাউকে কিছু না জানাতে শাসিয়ে দেয়। পিন্টুর ঘরে শিহাবকে আটকে রেখে চক্রটি সে নিখোঁজ বলে গ্রামে মাইকিং করে। কুতুবপুর গ্রামের অসিত কুমারের ভ্যানযোগে কলম ও শাহাবুদ্দীন এই প্রচার কাজে অংশ নেয়। রাতে আসামি লাল্টু শিশু শিহাবের মালয়েশিয়া প্রবাসী পিতা তোয়াজ উদ্দীনের কাছে মুক্তিপণ দাবি করার পরিকল্পনা করে। এসব দেখে শিশু শিহাব কান্নাকাটি শুরু করলে লাল্টু তার কানে জোরে থাপ্পড় মারে। এতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে শিহাব। পরে পিন্টু শিশু শিহাবকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর অসিতের ভ্যানযোগে লাশ শিবপুর গ্রামের মাঠে ফেলে আসে হত্যাকারীরা। লাশ টানার কাজে ব্যবহৃত ভ্যানটিও পিবিআই উদ্ধার করেছে।

ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের এসআই তহিদুল ইসলাম জানান, মূলত মায়ের সঙ্গে পিন্টুর অনৈতিক কাজ দেখে ফেলায় ও পরে শিশু শিহাবের প্রবাসী পিতার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করার জন্যই অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়। এ মামলার মূল আসামি লাল্টুকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। পিবিআইয়ের তদন্তে এজাহারের বাইরে আরও তিন জন আসামির সন্ধান মেলে।

এসআই তহিদুল জানান, তারা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর প্রধান আসামি শিবপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে লাল্টুকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমোশপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক কুতুবপুর গ্রাম থেকে জিয়ারত আলীর ছেলে জমির উদ্দীন পিন্টু ও ১৩ জুন মথুর দাসের ছেলে অসিত দাসকে গ্রেফতার করা হয়। কয়েক দিনের মধ্যে চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পেটে বাচ্চাসহ গরু জবাই!

অপহরণের ৩ মাস পর শ্যালিকার লাশ উদ্ধার, দুলাভাই পলাতক

আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে নারীর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

পরিকল্পিত হত্যা বলছে পরিবার

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

জামিনে বের হয়ে খুন হলেন যুবক

নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে ট্রিপল মার্ডার: পুলিশ

আনোয়ারায় এক বছরে পুকুরে ডুবে ২১ শিশুর মৃত্যু