গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে নিচু এলাকা। ফলে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। নষ্ট হয়েছে পেঁয়াজের বীজতলা। ধান, আলু, তরমুজ ও রবিশস্যের ক্ষতি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
নড়াইল : টানা বৃষ্টিতে জেলায় ১৮ হাজার ৬৩২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—গম, সরিষা, মসুরি, বোরো ধানের বীজতলা, মরিচ, শাক, বেগুন, মুলা, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও ওলকপিসহ শীতকালীন তরকারি। গত শনিবার থেকে শুরু হয়ে সোমবার রাত অবধি বৃষ্টিপাত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নড়াইলের উপপরিচালক দীপক কুমার রায় জানান, গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে ১ হাজার ৪৫ হেক্টর জমির শীতকালীন ফসল, ১৬২ হেক্টরের বোরো বীজতলা, ৫০ হেক্টর জমির মরিচ, ৭ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমির সরিষা, ৭ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমির মসুর ডাল এবং ২ হাজার ১০০ হেক্টর জমির গম ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।
ঝিনাইদহ :টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে পেঁয়াজের বীজতলার আবারও ক্ষতি হয়েছে। বীজতলায় পানি জমে চারা পচে যাচ্ছে। চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। সেই সঙ্গে পেঁয়াজ চাষ ব্যাহতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আকরাম হোসেন বলেন, বৃষ্টিতে পেঁয়াজের বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। বীজতলায় যাতে পচন রোগ না ছড়ায় এজন্য পানি বের করে ছত্রাকনাশক ওষুধ ছিটানোর কথা বলা হয়েছে।
ফরিদপুর : ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে টানা দুই দিনের বর্ষণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষি খেতের। বিশেষ করে মুড়িকাটা পেঁয়াজের খেত, হালি পেঁয়াজের বীজতলা, রসুনের খেত পানির নিচে নিমজ্জিত। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলমান দুর্যোগে জেলার ২০ হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. হযরত আলী জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ফলে ধারাবাহিক বৃষ্টিতে জেলার ২০ হাজার হেক্টর জমি নিমজ্জিত হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব কৃষকদের এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া জন্য অন্য কি ফসল করা যায়।
পিরোজপুর : ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে উপকূলীয় জনপদ পিরোজপুরের জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। গত শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। আমন চাষিরা রয়েছেন শঙ্কায়। বৃষ্টির ফলে জেলার অধিকাংশ আমন খেতের ধানগাছ জমির সঙ্গে নুয়ে পড়েছে। এছাড়া খেসারির খেতে পানি জমে গেছে| পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের দুই প্রান্তের শুঁটকি উৎপাদনকারীরাও বৃষ্টিতে চরম ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) : কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে আলুর জমি নিমজ্জিত হয়ে আছে। নাগদা গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন, আশ্বিনপুর গ্রামের কৃষক মানিক মিয়া বলেন, জমিতে সার ও কীটনাশক ভেসে গেছে। নওগাঁও গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, রোপণ করা আলুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আয়াত আলী বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে জমিতে রোপণকৃত আলুর বীজ কি পরিমাণ নষ্ট হয়েছে এখনই বলতে পারছি না। এ বিষয়ে তথ্য জানতে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।
