ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগে 'ডিজাইন শ্যারেট' অনুষ্ঠিত হয়েছে। গেল সপ্তাহের শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠন 'ডিজাইন ফোরাম' এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
অনলাইনের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি ওইদিন সকাল ৯টায় এ আয়োজন শুরু হয়ে চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
'ওয়েস্ট ফর দ্য বেস্ট' ছিল এই আয়োজনের মূলমন্ত্র। আয়োজকরা জানান, প্রতিনিয়তই প্লাস্টিক ও অন্যান্য ফেলনা বর্জ্যের কারণে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকও ফেলে দেয়া হচ্ছে যেখানে সেখানে। পচনশীল না হওয়ায় সামান্য একটি প্লাস্টিকের বোতল টিকে থাকবে কয়েক শ বছর, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ। প্লাস্টিক দূষণ কমানো ও দৈনন্দিন জীবনে উৎপাদিত বর্জ্যকে পুনপ্রক্রিয়াজাত করে কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে—সে বিষয়টি নিয়ে ভেবেছেন শিক্ষার্থীরা। এটিই প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু ছিল।
প্রতিযোগিতা চলাকালে গুগল মিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারপারসন স্থপতি অধ্যাপক ড. জয়নাব ফারুকী আলী ও সহযোগী অধ্যাপক স্থপতি ড. মোহাম্মদ ফারুক। এর আগে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেন বিভাগের প্রভাষক স্থপতি সামিউর রহমান ভুঁইয়া ও ডিজাইন ফোরামের সভাপতি সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার।
বুধবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শ্যারেটের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্যারেটে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিয়া নাজনীন। বিভিন্ন প্রকারের বর্জ্যকে আলাদা-আলাদা বিনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে তা পুনপ্রক্রিয়াজাত করা; পুরনো কাগজকে আবারও ব্যবহারযোগ্য কাগজে রূপান্তর, ফেলনা প্লাস্টিকের বোতল থেকে জুতো, কলমদানি ও অন্যান্য ব্যবহার্য সামগ্রী তৈরি এবং পুরনো কাপড় থেকে স্কুল ব্যাগ তৈরির কথা ভেবেছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দরিদ্র পরিবারগুলোর বেশিরভাগ শিশুরা স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়না। এর পেছনে অন্যতম কারণ শিক্ষা উপকরণ কেনার সামর্থ্যের অভাব। বর্জ্য পুনপ্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা শিক্ষা উপকরণ তাদের জন্য সহায়ক হতে পারে এবং তা স্বল্পমূল্যে তৈরি করা সম্ভব।
দ্বিতীয় হয়েছেন একই বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস। তার ভাবনাও প্রায় কাছাকাছি। তিনি বেশ কয়েকটি নমুনা উপস্থাপন করেছেন। তৃতীয় হওয়া আব্দুল্লাহ আল মামুন প্লাস্টিকের বোতলের পুনর্ব্যবহারের কথা ভেবেছেন। দল হিসেবে বিশেষ পুরষ্কার পাওয়া মুমতাহিনা, রুয়াইদা, ফাহমিদা ও সানির ভাবনা ছিল অনেকটাই আলাদা। বোতলের তৈরি ইকো-ব্রিকের মাধ্যমে এমন একটি দেয়াল তৈরির কথা ভেবেছেন তারা, যেটিকে ঘিরে বাচ্চাদের খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ রোধে সচেতনতার বার্তা দেয়া হবে। বিশেষ পুরষ্কার পাওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সওদা বিনতে শাহাদাতও বিভিন্ন বর্জ্যকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার উপায় দেখিয়েছেন।
শ্যারেটে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন সহযোগী অধ্যাপক স্থপতি ড. ইফতেখার আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক স্থপতি আবুল ফজল মাহমুদুন নবী ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষক স্থপতি তানজিনা খান।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ডিজাইন ফোরামের হেড অব প্ল্যানিং রুবাইয়াৎ কামাল বলেন, 'এমন নয় যে আমরা এখানে কোনো আকাশ-কুসুম চিন্তা করেছি। ভাবনাগুলো খুবই সাধারণ। তবে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ দূষণের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরিতে একটি বার্তা দেয়া। প্রতিদিনই আমরা ব্যবহার্য অনেক সামগ্রী যেখানে সেখানে ফেলে দিই, যা পরিবেশের ক্ষতি করে। স্থাপত্যের শিক্ষার্থী হিসেবে এ ব্যাপারে নিজে সচেতন হওয়া ও অন্যকে সচেতন করার দায়বদ্ধতা রয়েছে আমাদের।'
আয়োজনটি সমন্বয় করেন ডিজাইন ফোরামের সদস্য সাদিয়া ইশতিয়াক, আবরার এহসান নিহাল, রাকিবুল হাসান ফাহিম, মুমতাহিনা মম, সায়ীদা তাসনীম, ফায়েক আল রাফি সহ অন্যান্যরা।
ডিজাইন শ্যারেট মূলত এমন একটি ধারণা, যেখানে শিক্ষার্থীরা কোনো একটি সমস্যার সমাধান করা নিয়ে ভাবে। প্রতিযোগিতার বিষয় ঘোষণা করা হয় প্রতিযোগিতা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে। পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো একটি সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হয় তাদের।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ডিজাইন ফোরামের এ আয়োজনে সহযোগী ছিল বিট প্লাস্টিক বাংলাদেশ। মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক ইত্তেফাক।
