ইভ্যালি কেলেঙ্কারি

তাহসান-মিথিলা-ফারিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৫৪

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান, অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও অভিনেত্রী শবনম ফারিয়াকে যেকোনো সময় গ্রেফতার করা হতে পারেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে তাদের উপর নজরদারি শুরু করা হয়েছে। তাহসান খান দেশের বাইরে থাকলেও প্রযুক্তির সহায়তায় অন্য দুই জনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে তাদের গ্রেফতার করা হবে।

যদিও অভিযুক্ত তারকারা বলছেন, তাদের হয়রানি করতে মামলার আসামি করা হয়েছে। তারা ইভ্যালির প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত নন। 

গতকাল শুক্রবার ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান জানান, ধানমন্ডি থানায় ইভ্যালির একজন গ্রাহকের দায়ের করা মামলায় তারা নজরদারিতে রয়েছেন। মামলাটিতে মোট ৯ জন আসামি। তাদের মধ্যে তাহসান, মিথিলা ও ফারিয়া যথাক্রমে ৭, ৮ ও ৯ নম্বর আসামি। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল, তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরীন, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান বিপনন কর্মকর্তা আরিফ আর হোসাইন, মোহাম্মদ আবু তাইশ, আকাশ ও তাহের। এর আগে গত শনিবার ধানমন্ডি থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ইভ্যালির গ্রাহক সাদ স্যাম রহমান। পরে বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।

গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রতারণার শুরু থেকে সংযুক্ত করা হয়েছিল নামি-দামি তারকাদের। অনেকের অভিযোগ জনপ্রিয় এসব তারকাদের দেওয়া মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পা দিয়েই সর্বস্বান্ত হয়েছেন তারা। তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়ারা ইভ্যালির বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। এজন্য তদন্তের স্বার্থে তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে। চটকদার বিজ্ঞাপন ও বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাজারো গ্রাহককে পথে বসিয়েছে ইভ্যালি- মামলাটিতে এমন অভিযোগও করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়ার উপস্থিতি এবং তাদের বিভিন্ন প্রমোশনাল কথাবার্তার কারণে আস্থা রেখে ইভ্যালি থেকে ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকায় মোটরসাইকেল অর্ডার করেছিলেন সাদ স্যাম রহমান। কিন্তু তাকে পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয়নি, টাকাও ফেরত পাননি। এসব তারকার কারণে মামলার বাদী প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব হাসান বলেন, অন্য মামলায় কারাগারে থাকা ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও এমডি মোহাম্মদ রাসেলকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইভ্যালির শুভেচ্ছাদূত ছিলেন তাহসান। মিথিলা ছিলেন ফেস অব ইভ্যালি লাইফস্টাইলের শুভেচ্ছাদূত। এছাড়া শবনম ফারিয়া ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা ছিলেন। যেকোনো সময় গ্রেপ্তার, পুলিশের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অভিনেতা তাহসান খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একটি কোম্পানি কীভাবে কাজ করে সেটি একজন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার হিসেবে তার জানার কথা নয়। হয়রানির উদ্দেশ্যে তাকে মামলার আসামি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ইভ্যালির জন্য কোন বিজ্ঞাপনে শ্যুটিং করার বহু আগেই তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছেন। ইভ্যালি সম্পর্কে তার ফেসবুকে অনেক অভিযোগ পাওয়ার কারণে তিনি এ সংক্রান্ত চুক্তিটি বাতিল করেন। 

মামলার বিষয়ে রাফিয়াত রশিদ মিথিলা গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমি তো কোনো লিগ্যাল নোটিশ পাইনি। আমি আসলে কিছুই ডিটেইল জানি না। এখনো বুঝতে পারছি না। বিষয়টির কিছুই জানি না। মিথিলা বলেন, আমি ঢাকায় আছি। আমি তো আসলে কিছু করি নাই। আমি তো ওখানে (ইভ্যালিতে) ছিলাম এক মাসের মতো। আমার জন্য শকিং। কখনো হয় নাই তো। আসুক লিগ্যাল নোটিশ। মিথিলা বলেন, আমরা তো হাজারের বেশি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন করি। এখন একটি নিয়ে মামলা হলো। দেখি কি করা যায়। 

ইভ্যালির সঙ্গে কাজের পরিধি ও মামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের শবনম ফারিয়া বলেছেন, আমাকে হয়রানি করার জন্যই এ মামলা করা হয়েছে। কেন হয়রানি, কী জন্য হয়রানি সেটা তো আমি জানি না। আর থানা পুলিশ বলেছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে আমার সম্পৃক্ততা আছে কিনা। আমি শিউর উনারা আমার সম্পৃক্ততা পাবে না। শবনম ফারিয়া আরো বলেন, মামলায় আমাকে যে কয়েকটা অপরাধ দেখানো হয়েছে সেগুলোর সঙ্গে আমার মিলছে না। আর আমি এখনো ইভ্যালি থেকে এক টাকাও পাই না। 

উল্লেখ্য, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা এক মামলায় মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও এমডি মোহাম্মদ রাসেলকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ