কুড়িতেই বুড়ি, উপমহাদেশে নারী ফুটবলে এমন কথা বলা যাবে না। এখনকার নারী ফুটবলাররা স্বপ্ন দেখেন। উড়তে ভালোবাসেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ব্যানারে নিজের ছবি দেখতে চান। হতে চান পোষ্টার গার্ল। এএফসি কিংবা ফিফা, আগামী দিনের নারী ফুটবলারদের নিয়ে নানা পরিকল্পনা তৈরি করে। সাফ (সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারশন) এএফসি এবং ফিফার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফুটবলের জন্য কাজ করে। ফিফা যেভাবে ছক তৈরি করে দেয় সেভাবে প্রেসক্রিপশন পাঠায় এএফসি। সেটা নিয়ে সাফও নারী ফুটবলের পরিকল্পনা সাজায়। আজ (১১ ডিসেম্বর) ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবলও এএফসির প্রেসক্রিপশনে শুরু হচ্ছে।
এবারই প্রথম সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল হতে যাচ্ছে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল হতো। সেটি এখন অনূর্ধ্ব-২০ হয়েছে। তাই এএফসি জানিয়েছে, সাফ যেন অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল আয়োজন করে। যেটি পরের বছর এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলের খেলা হবে। নারীরা সেই টুর্নামেন্টে খেলবে। সাফের সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক হেলাল বললেন, ‘এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল টুর্নামেন্টটি এখন অনূর্ধ্ব-২০ করা হয়েছে। সাফকে অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল আয়োজন করতে বলা হয়েছে। এই মেয়েরা অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে খেলবে।’
সাফের লড়াই হলেও বাংলাদেশসহ ৫ দেশ খেলছে। ভারত, ভুটান, শ্রীলঙ্কা এবং নেপাল। আসেনি পাকিস্তান। এখনো তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইনি জটিলতায় পড়ে ফিফা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। সেটিও অনেক দিন হয়ে গেলো। ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ক্রিকেট নিয়ে যেভাবে নাড়া দিয়েছেন ফুটবল নিয়ে তেমন তৎপর হতে শোনা যায়নি। সাফের সেক্রেটারি হেলাল বললেন, ‘আসলে পাকিস্তান ফুটবলের বিষয়টি নিয়ে আমাদেরও কিছু বলার নেই। কারণ ফিফা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে তারাও আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলতে পারবে।’
মালদ্বীপ নাম এন্ট্রি করেনি। কেন করেনি ? আনোয়ারুল হক হেলাল বললেন, ‘আমি জানি না। হয়তো ওদের নারী ফুটবল দল গঠন হয়নি।’
ভারত এসেছে পরিকল্পনা নিয়ে। আগামী বছর জানুয়ারিতে ভারতে এশিয়ান কাপ ফুটবলের আসর। এশিয়ার শীর্ষ ১২ দল খেলবে। যেখানে রয়েছে চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ইরানের মতো শক্তিশালী দল। ভারত এরই মধ্যে তাদের নারী ফুটবল দলকে ব্রাজিলে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পাঠিয়েছিল। সেই দলের দুই ফুটবলার এসেছেন ঢাকায়। বুঝা যায় পরিকল্পনার ভিত কতো শক্ত। জাতীয় দলের পাশাপাশি আগামী দিনের দল তৈরি করছে ভারত।
খেলা হবে কমলাপুর স্টেডিয়ামে। সাফের এই আয়োজন করতে গিয়ে বাফুফেকে খুব একটা খরচ করতে হবে না। কারণ, যারা আসছে তাদের যাওয়া আসা, থাকা খাওয়া সবই সাফ হতে দেওয়া হবে। আনোয়ারুল হক হেলাল বললেন, ‘সাফের এই খেলাটাও ফিফার ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের আওতায় হচ্ছে। এখনই ফিফা টাকা দিয়ে দেবে, তা ঠিক না। খেলা শেষ হবে তার পর অনেক হিসাবের বিষয় আছে।’
