স্ত্রী অপহরণের মামলায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তুষার দাসকে। কিন্তু ওই মামলায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অপহরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তুষারের স্ত্রী সুষ্মিতা। কিন্তু এরপরও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল তার স্বামীকে এই দণ্ড দেয়। ওই দণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। সেই আপিল শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের সাজার রায় বাতিল করে তুষারকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (১২ ডিসেম্বর) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ এই রায় দেন। রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, এই মামলায় অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তুষার ও সুষ্মিতা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে মন্দিরে গিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। সেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তাদের কোলজুড়ে এসেছে ফুটফুটে কন্যা সন্তান। তার বয়স আজ তিন বছরের মত।
রায়ে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে সুষ্মিতার দেওয়া জবানবন্দি আমলে না নিয়েই তার স্বামীকে দণ্ড দিয়েছে। ওই মামলা থেকে তাকে খালাস দেওয়া হলো। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তুষারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তুষার ও সুষ্মিতা। তারা ওই সময় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, উচ্চ আদালত থেকে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।
এর আগে সুস্মিতা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমি ভালবেসে স্বেচ্ছায় তুষারকে বিয়ে করেছি। জাতি-ধর্ম-বর্ণ বিবেচনা না করে সবাইকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কারণ, ভালবাসায় কোনো উঁচু-নিচু বর্ণ নেই। আমার বাবাকে বলতে চাই ‘তোমরা ভাল ও সুখে থেক। যদি পারো সবকিছু মেনে নাও।’ কিন্তু আজও সুষ্মিতাকে মেনে নেয়নি তার পরিবার।
২০১৮ সালে শরীয়তপুরের সুস্মিতা ও তুষার ভালবেসে বিয়ে করেন। এরই মধ্যে তাদের কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান। কিন্তু তখন তাদের বিয়ে মেনে নিতে পারেনি সুস্মিতার বাবা-মা। মেয়ে ‘নাবালিকা’ এমন অভিযোগে সুস্মিতার মা অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন তুষারের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় ৮ মাসের মতো জেলও খাটেন তুষার। বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই তুষারকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে সেই অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন তুষার। ওই আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে ওই বছরের ১ আগস্ট বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ তুষারকে জামিন দেয়। এরপর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পায়। দুই বছর পর ওই আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে তাকে খালাস দিলো হাইকোর্ট।

৭৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেও শেষ রক্ষা হলো না জিনের বাদশার