শনিবার, ২১ মে ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটোতে বাতিল

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৪২

ইতিহাসের এই দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম রজার্স আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে শিগগিরিই যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। তিনি ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ চায় না, তবে যুদ্ধ বাধলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাতে জড়িয়ে পড়বে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বললেও এই দিনই ২৪ ঘণ্টা থেমে থাকার পর বঙ্গোপসাগরের দিকে যাত্রা শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর। এদিকে, ১৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মুলতবি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব তৃতীয়বারের মত সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো দেয়ার ফলে বাতিল হয়ে যায়।

এদিকে, ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী ঢাকার পতন দ্রুততর করার প্রয়োজনে যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তন করে। কেননা ঢাকার পতন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের পরাজয় চূড়ান্ত হবে। সপ্তম নৌবহর বাংলাদেশের উপকূলে পৌঁছানোর আগেই ঢাকা পতন চূড়ান্ত করতে চাইছিল যৌথবাহিনী। তবে এত দ্রুত যে ঢাকা আক্রমন করা সম্ভব হবে এটা ধারনাতেও ছিল না ভারতীয় সৈন্যদের। মুক্তিযোদ্ধাদের মরনপণ করা লড়াইয়ের কারণেই যে এত দ্রুত মিত্রবাহিনী ঢাকার দিকে এগুতে পারছে এ কথা প্রত্যেক ভারতীয় সামরিক অফিসারই স্বীকার করেন। প্রশংসা করেন মুক্তিবাহিনীর।

একাত্তরের এই দিনে পূর্ব ও উত্তর দিক থেকে মিত্রবাহিনী ঢাকার প্রায় ১৫ মাইলের মধ্যে পৌঁছে যায়। ৫৭ নম্বর ডিভিশনের দুটো ব্রিগেড এগিয়ে আসে পূর্ব দিক থেকে। উত্তর দিক থেকে আসে জেনারেল গন্ধর্ব নাগরার ব্রিগেড এবং টাঙ্গাইলে নামা ছত্রিসেনারা। পশ্চিমে ৪ নম্বর ডিভিশনও মধুমতী পার হয়ে পৌঁছে যায় পদ্মার তীরে। রাত নয়টায় মেজর জেনারেল নাগরা টাঙ্গাইল আসেন। ব্রিগেডিয়ার ক্লের ও ব্রিগেডিয়ার সান সিং সন্ধ্যা থেকে টাঙ্গাইলে অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে নয়টায় টাঙ্গাইল ওয়াপদা রেস্ট হাউসে তারা পরবর্তী যুদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় বসেন। আলোচনার শুরুতে মেজর জেনারেল নাগরা মুক্তিবাহিনীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যদি আমাদের বিনা বাধায় এতটা পথ পাড়ি দিতে সাহায্য না করতেন, তাহলে আমাদের বাহিনী দীর্ঘ রাস্তায় যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়তো। রাস্তাতেই আমাদের অনেক শক্তি ক্ষয় হয়ে যেত। এদিন লে. কর্নেল শফিউল্লাহর ‘এস’ ফোর্স ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে এদিনে ঢাকার উপকণ্ঠে ডেমরা পৌঁছায়। সৈয়দপুরে এদিনে আত্মসমর্পন করে ৪৮ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের অধিনায়কসহ ১০৭ পাকিস্তানি সেনা।

এদিকে, মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্বার আক্রমনের মুখে দেশের নানা প্রান্তের বিভিন্ন এলাকা একে মুক্ত হতে শুরু করেছে। ইতিহাসের এই দিনে যৌথ বাহিনীর অগ্রবর্তী সেনাদল শীতলক্ষা ও বারু নদী অতিক্রম করে ঢাকার ৫-৬ মাইলের মধ্যে পৌঁছে যায়। বালু নদীর পূর্বদিকে পাকিস্তানি বাহিনী স্বীয় পরিসীমায় এক শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। বাসাবো ও খিঁলগাও এলাকার চারদিকে আগে থেকেই পাকিস্তান বাহিনী ফিল্ড ডিফেন্স বা আক্রমন প্রতিহত করার জন্যে সর্বাত্মক ব্যবস্থাসহ অবস্থান নিয়েছিল। 

এদিকে বগুড়া জেলায় মুক্তিবাহিনীর গেরিলাদল মহিমাগঞ্জের দুলুর নেতৃত্বে ও সিহিপুরের বাবলু, খালেক, হামিদ, খলিল, নূরুল, শুকু, ফিনু, জগলু, হাল্লু, লিন্টু এবং আরো অনেকের সহযোগিতায় সুকানপুকুর রেল স্টেশনের কাছে সিহিপুরে পাকিস্তানি সৈন্যবাহী একটি স্পেশাল ট্রেন ডিনামাইটের সাহায্যে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। এতে প্রায় দেড়শত পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়। কুমিল্লায় মুক্তিবাহিনী চাওড়া এলাকায় অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনাদের ওপর তীব্র আক্রমন চালায়। এই সংঘর্ষে ২ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত ও ৩ জন আহত হয়। আক্রমন শেষে মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদে নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরে আসে। ৮নম্বর সেক্টরে মুক্তিবাহিনী একদল পাকিস্তানি সেনাকে রাজাপুর নামক স্থানে এম্বুশ করে। এই এম্বুশে পাকবাহিনীর ৪জন সৈন্য নিহত ও ২জন আহত হয়। মুক্তিবাহিনী কুষ্টিয়া জেলার প্রতাপপুর এলাকায় পাকসেনাদের এম্বুশ করে। এই এম্বুশে পাকবাহিনীর ১১জন সৈন্য নিহত ও ৪ জন আহত হয়। ২ নম্বর সেক্টরে সুবেদার মেজর লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে এক প্লাটুন যোদ্ধা লক্ষীপুর রাজাকার ঘাঁটি আক্রমন করে। মুক্তিযোদ্ধাদের আকস্মিক আক্রমনে অনেক রাজাকার হতাহত হয়। এই সংঘর্ষে এলাকার জনসাধারন বিশেষভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করে।

৬ নম্বর সেক্টরে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সহায়ক সৈন্যদের সম্মিলিত বাহিনীর বীর যোদ্ধারা ভুরুঙ্গামারী পাকসেনা অবস্থানের ওপর তীব্র আক্রমন চালায়। এই যুদ্ধে বহু পাকসৈন্য নিহত ও ৩ জন পাঞ্জাবী সৈন্য বন্দী হয় এবং ভুরুঙ্গামারী থানা মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে আসে। এই অভিযানে ভারতীয় সহায়ক বাহিনীর নেতৃত্ব দেন ব্রিগেডিয়ার যোশী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচালনা করেন সেক্টর কমান্ডার কে এম বাশার ও সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর নওয়াজেশ।

উত্তরাঞ্চলে যৌথবাহিনী দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ থেকে ঢাকা মহাসড়ক ধরে বগুড়ার উদ্দেশে রওয়ানা হয়। বগুড়ায় তখন শত্রুবাহিনীর কয়েক রেজিমেন্ট কামান ও ট্যাংকসহ অবস্থান করছিল। হিলি রক্ষাব্যূহ ছেড়ে আগেই পাকসৈন্যরা বগুড়ায় চলে এসে গড়ে তুলেছিল শক্তিশালী প্রতিরোধ। রাতে যৌথবাহিনী চারদিক থেকে বগুড়া শহর ঘিরে ফেলে। মধ্যরাতে যৌথবাহিনীর তিনটি ব্যাটালিয়ান উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব-উত্তর দিক থেকে শত্রুর ওপর আঘাত হানে।

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

‘সুষ্ঠু ভোট’ ইস্যুতে হার্ডলাইনে ইসি

বিশেষ সংবাদ

ভোগ্যপণ্য ও ডলারের বাজার পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

বিশেষ সংবাদ

ভারতে পি কের ১৫২ কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান

বিশেষ সংবাদ

কলকাতায় আবাসন খাতে পি কে হালদারের বিপুল বিনিয়োগ!

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

হোটেল রুমে মোবাইল ফোন রেখে সীমান্ত পাড়ি দেন পি কে হালদার

জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছে শিশুরা

বিশেষ সংবাদ

শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে আসছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী

বিশেষ সংবাদ

নতুন দলের নিবন্ধন দিতে যাচ্ছে ইসি