বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নিয়াজি ও মালিকের কাছে যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দেন ইয়াহিয়া 

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:২৭

একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন। মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে বাঙালি জাতিকে চিরতরে মেধাশূন্য ও পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার, আইনজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি পেশাজীবীদের ধরে নিয়ে গিয়ে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করা হয়।

এদিন বিভিন্ন রণাঙ্গনে ক্রমাগত উড়তে থাকে বাংলাদেশের বিজয় পতাকা। শত্রুমুক্ত হয় ঢাকার পার্শ্ববর্তী গাজীপুরের পুবাইল, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও বৈদ্যেরবাজার, বগুড়া জেলার শেরপুর ও শিবগঞ্জ থানাসহ জেলা শহরের একাংশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জ এলাকা, আক্কেলপুর ও পাঁচবিবিসহ জয়পুরহাট জেলা, যশোরের কেশবপুর, রংপুরের মিঠাপুকুর, চট্টগ্রামের বান্দরবান, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, পটিয়া ও কুমিড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল প্রভৃতি এলাকা।

এই দিনই সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলীয় দখলদার বাহিনীর প্রধান নিয়াজি ও গভর্নর ড. মালিকের কাছে যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে এক তারবার্তা পাঠালে চূড়ান্তভাবে ভেঙে পড়ে দখলদার বাহিনীর মনোবল। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের প্রাক্কালে এদিন মুক্তিযুদ্ধের যৌথ কমান্ড মিত্র বাহিনীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে রাজধানী ঢাকা।

দখলদার বাহিনীর সব কটি ডিভিশন ইতিমধ্যে সেন্ট্রাল কমান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। হানাদারদের উত্তর সেক্টরের ময়মনসিংহ ব্রিগেড ঢাকার পথে পশ্চাত্পসরণ করলেও শেষ পর্যন্ত ঢাকায় পৌঁছাতে পারেনি। তারা জয়দেবপুরে আটকে পড়ে।

মিত্রবাহিনীর অবস্থানের কারণে দখলদার বাহিনীর উত্তর-পশ্চিম সেক্টরের ১৬তম ডিভিশন কিংবা পশ্চিম সেক্টরের নবম ডিভিশন কারো পক্ষেই পশ্চাত্পসরণ করেও ঢাকার ডিফেন্সে এগিয়ে আসার কোনো পথ ছিল না। তাদের প্রতিটি ডিভিশন ইতিমধ্যে যৌথ বাহিনীর আক্রমণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। 

ইস্টার্ন কমান্ডের কিছু সৈন্য ঢাকায় আসতে পারলেও তাদের অধিকাংশ সৈন্য ইতিমধ্যে যৌথ বাহিনীর হাতে বন্দি হয়। বিভিন্ন রণাঙ্গন থেকে একের পর এক পরাজয়ের সংবাদে দখলদার বাহিনী তখন দিশেহারা এবং পরাজয়ের আশঙ্কায় ভীত। ১৪ ডিসেম্বর দখলদার বাহিনী যখন ঢাকায় নির্দয়ভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যা করছে, ঠিক তখন যৌথ বাহিনী ঢাকার উপকণ্ঠে তুরাগ নদের পশ্চিম পাড়ে পৌঁছে গেছে। পশ্চিম ও পশ্চিম-উত্তর দিক থেকে ঢাকাকে ঘিরে ফেলে মুক্তিবাহিনী, তৈরি করে কালিয়াকৈর-সাভার-মিরপুর-ঢাকা বেষ্টনী।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের ৩ নম্বর সেক্টরের যোদ্ধারা ১৪ ডিসেম্বর রাতে পৌঁছে যায় ঢাকার বাসাবোতে এবং দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি দল ডেমরায়। মিত্রবাহিনীর কাছে খবর পৌঁছায় যে, চতুর্মুখী আক্রমণে দিশেহারা পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও হানাদার বাহিনীর পদস্হ কর্মকর্তারা যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে ১৪ ডিসেম্বর গভর্নর হাউজে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন।

মিত্রবাহিনী এ বৈঠক পণ্ড করার লক্ষ্যে ঢাকায় গভর্নর হাউজে বিমান হামলা চালায়।

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু

বাংলাদেশের নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে হবে: পিটার হাস 

রোহিঙ্গারা হতাশা থেকে অপরাধে জড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

হজ ফ্লাইট শুরু ৫ জুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ইভিএমে এখনও পুরোপুরি আস্থাভাজন হতে পারিনি: সিইসি

২৪ ঘণ্টায় করোনায় শনাক্ত ৩৪

ভারত থেকে গম আমদানি করতে চায় সরকার

বাংলাদেশের সঙ্গে এয়ার সার্ভিস চুক্তি করতে চায় সুইজারল্যান্ড