মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বাড়ছে আমদানি-রপ্তানি, গতি ফিরছে রাজস্ব আদায়ে

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:০৬

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে রাজস্ব আদায়ে গতি ফিরছে। আমদানি রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায়ও বেড়েছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে নভেম্বর সময়ে রাজস্ব আদায়ে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদায় করেছে ১ লাখ ২৬৭ কোটি টাকা।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয় ৮৭ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ১৩ হাজার ৭৩ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করেছে এনবিআর। জুলাই-নভেম্বর সময়ে সবচেয়ে রাজস্ব আদায় হয় মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে ৩৬ হাজার ৬০৫ কোটি। ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে ভ্যাট আদায় সরাসরি ভোক্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভ্যাট আদায় বৃদ্ধির অর্থ হচ্ছে ভোক্তা ব্যয়ও বেড়েছে। করোনার প্রভাব কাটিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে ব্যয় বেড়েছে, অর্থাত্ অর্থনীতির চাকা ঘুরছে। তবে রাজস্ব আদায় বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে রয়েছে এনবিআর। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৩ হাজার ৯৮ কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে। এ সময়ে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল।

রাজস্ব আদায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার প্রভাব কমে আসার ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি বাড়ছে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মনিটরিং ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। অটোমেশনের কারণে রাজস্ব আদায়ে গতি বেড়েছে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে আমদানি-রফতানি শুল্ক খাত থেকে। আমদানি-রফতানির শুল্ক খাত থেকে আদায় হয়েছে ৩৩ হাজার ৯৬৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এনবিআরের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরের পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) আয়কর থেকে আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৬৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আয়কর থেকে রাজস্ব আদায় প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ।

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর সবকিছু বন্ধ থাকায় গত বছরের এপ্রিল থেকে বেশ কয়েক মাস রাজস্ব স্থবির হয়ে পড়ে। গত বছরের জুলাই মাস থেকে রাজস্ব আদায় কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। চলতি অর্থবছরের শুরুতে আগের ধারায় রাজস্ব পেতে শুরু করে এনবিআর। করোনার প্রথম ধাপে ২০১৯-২০ অর্থবছর রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক বা নেতিবাচক ছিল। দেশে রাজস্ব আদায়ে এমন পরিস্থিতি কখনো দেখা যায়নি। সেই অবস্থা থেকে এবছর ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এনবিআর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি উন্নতির ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা চাঙা হওয়ায় আমদানির চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে আমদানি শুল্ক বাড়ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে আমদানি শুল্ক বাড়ে। কারণ, তখন বেশি দামের ওপর ভিত্তি করে পণ্যের শুল্কায়ন করা হয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, দেশীয় মুদ্রায় যা ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি ও রপ্তানি দুটোই বাড়ছে। তবে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বাড়ছে দ্রুত। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। আমদানি-রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের শুল্ক আদায়ও বেড়েছে, যার প্রভাব সার্বিক রাজস্ব আদায়ে পড়েছে।