লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর ও তল্লাশি চৌকিতে করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন সংক্রমণ প্রতিরোধে চলছে উদাসীনতা।
স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, পুলিশ অভিবাসন চৌকি, আমদানি-রপ্তানিকারক, পণ্যবাহী গাড়ির চালক, পণ্য খালাস ও বোঝাইয়ে নিয়োজিত শ্রমিক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মচারী কেউই নূন্যতম সতর্কতা মানছেন না। স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই বললেই চলে।
স্থানীয়রা জানায়, এ অবস্থা চলতে থাকলে ওমিক্রন ঝুঁকিতে পড়বে বন্দরটি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ায় এ বন্দর ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরো বন্দর এলাকার রাস্তাঘাট, খাবারের রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেলগুলোতে ভারত, ভুটান থেকে আসা লোকজন ও চালকদের অবাধ যাতায়াত। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে চালক ও বন্দরে পণ্য খালাসে নিয়োজিত শ্রমিকদের। কোনো প্রকার বিধিনিষেধ মানতে দেখা যায়নি কাউকে। দু-এক জনের মুখে মাস্ক থাকলেও প্রায় সবাই চলছেন মাস্ক ছাড়া।
বুড়িমারী স্থলবন্দর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বন্দর সম্পাদক আফিছার রহমান (৪২) বলেন, ওমিক্রন ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো নিয়ম জানায়নি বা চালু করেনি। চালক-শ্রমিক সবাই খোলামেলা চলাফেরা করছে। বন্দর এলাকার মধ্যে ভারত, ভুটানের চালক, আমাদের দেশের শ্রমিক, আমদানি-রপ্তানিকারকের প্রতিনিধি, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মচারীসহ প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার মানুষ কাজকর্ম করে থাকে।
ভারতের চ্যাংরাবান্দা থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকচালক কমল বশাক বলেন, ওমিক্রনের কথা শুনেছি। মাস্ক পকেটে আছে। বন্দর এলাকার বাইরে গেলে মুখে দেই। সিরাজগঞ্জ থেকে পণ্য নিতে আসা জুলহাস বলেন, ‘ওমিক্রন কী ভাই? জানি না। এখানে এসে এরকম কিছুই তো শুনলাম না। কাউকে তো কোনো নিয়ম মানতেও দেখছি না।
বুড়িমারী স্হলবন্দর অভিবাসন চৌকির (ইমিগ্রেশন) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, বুড়িমারী স্হলবন্দরের শূন্য রেখার পাশে উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী কর্তৃক ইস্যুকৃত স্বাস্থ্য সনদ দেখা হয় ও করোনা নেগেটিভ সনদ দেখে আমরা যাত্রীদের ছেড়ে দেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অভিবাসন চৌকির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বুড়িমারী স্হলবন্দর প্রবেশের সময় শূন্য রেখায় কাস্টমের একটি কক্ষ ব্যবহার করে আমাদের কর্মকর্তা আছে। তাপমাত্রা পরিমাপে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে কোনোভাবেই যেন কোনো ধরনের গাফিলতি না হয় এজন্য সতর্ক করে দেওয়া হবে।
বুড়িমারী স্হল শুল্ক স্টেশন কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) কেফায়েত উল্যাহ মজুমদার বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করছি। আমদানি-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের যারা কাজ করছেন সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া শূন্য রেখায় পণ্যবাহী গাড়ি প্রবেশের সময় জীবাণুনাশক স্পে্র করা হয়।
বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রোগ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা কাজ করছি। পণ্য নিয়ে আসা গাড়িচালকরা যাতে বিনা প্রয়োজনে বের না হন সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। একাধিক কর্মকর্তা মাস্ক ব্যবহার করছেন না জানালে তিনি বলেন, কেউ ঢিলেমি করলে আমরা অবশ্যই তাকে সতর্ক করব।
