স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা তিমির নন্দী দেশকে ভালোবেসেই গানের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। দেশাত্ববোধক গানের পাশাপাশি আধুনিক গানে দারুণ জনপ্রিয় এই শিল্পী বিজয় দিবস, স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে।
বিজয় দিবসের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই
— মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নির্মিত বেশ কয়েকটি লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছি বিভিন্ন চ্যানেলে| পাশাপাশি আমার কিছু রেকর্ড করা অনুষ্ঠানও প্রচারিত হবে। এছাড়া সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আগামীকাল (আজ) যে অনুষ্ঠানটি হবে সেখানে অংশ নেবো।
‘আমার বাংলাদেশ’ শিরোনামে নতুন একটি দেশাত্ববোধক গান করলেন। গানটিতে বিশেষ কী রয়েছে?
অনেকদিন পর একটি মনের মতো দেশাত্ববোধক গান করলাম। বলতে পারেন, মন খুলে গাইতে পেরেছি, আমি খুবই তৃপ্ত। আমার সঙ্গে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মো. রফিকুল আলম, আবিদা সুলতানা এবং এই প্রজন্মের শিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী, চম্পা বণিক ও খালেদ মুন্না গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন।
স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা আপনি| সেই সময়ের এমন কোন স্মৃতি রয়েছে, যা এখনো তাড়া করে বেড়ায়?
স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রে আমিই সবচেয়ে ছোট শিল্পী ছিলাম। ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও মনে হয় এই তো সেদিনের ঘটনা! সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের কথা| সেদিন ২টার দিকে হটাত্ খবর পেলাম পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে| স্বজন হারানোর বেদনা থাকলেও আমরা আনন্দে মেতে উঠলাম। কলকাতার স্হানীয়রাও আমাদের সঙ্গে যোগ দিলেন, রাস্তাগুলো জয় বাংলা শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠল| তখন শহীদুল ইসলাম লিখলেন ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’ শিরোনামের গানটি এবং মাত্র ১৫ মিনিটে সুজেয় শ্যাম সুর করে ফেললেন| ৩০ মিনিটেই গানটি রেকর্ড হয়ে গেল!
বিশেষ দিবস ছাড়া দেশাত্ববোধক গান বা অনুষ্ঠান কম হচ্ছে মনে করছেন না?
হ্যাঁ, অবশ্যই কম হচ্ছে। কারণ এখন তো সবাই বাণিজ্যিক চিন্তাটা বেশি করেন। যদি আমরা দেশের গান, স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের গান নিয়মিত প্রচার করি তাহলে সমস্যা কোথায়? আমাদের কেন মার্চ ও ডিসেম্বর মাসে খোঁজা হয়? চাইলে দেশপ্রেম সারাবছর দেখানো যায়| তাছাড়া নিয়মিত দেশের গান তৈরি শিল্পীর দায়িত্বের ভেতর পড়ে।
এখন অনিয়মিত কিছু দেশের গান হলেও সেভাবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না কেন?
আমাদের সময় মনের মাঝে তাড়না ছিল, দেশপ্রেম ছিল, ক্রোধ ছিল পাকিস্তানিদের তাড়ানোর জন্য| তার বহিঃপ্রকাশ আমাদের গানের মাঝে ছিল। কিন্তু এখনকার ছেলেমেয়েরা যুদ্ধ না দেখার কারণে সেই আবেগটা গানে ধারণ করতে পারে না। তাছাড়া এ ধরনের গান লেখা, সুর-মিউজিক করার মানুষের অভাব এখন রয়েছে।
