শনিবার, ২১ মে ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

৫০ বছরে বাংলাদেশ: যা ভাবছেন তরুণরা

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৩৩

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও শেখ মুজিবুর রহমান একে অপরের পরিপূরক। যার ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি আমরা। পেয়েছি সোনার বাংলাদেশ। বিজয়ের ৫০ বছর আজ। বিজয়ের এই দিনে বাঙালি জাতিসত্ত্বার আত্মমর্যাদা, বীরত্ব ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। প্রতিবছর এই দিবসটি বাঙালিরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। ১৬ ডিসেম্বর এলেই দেশব্যাপী বিজয়ের ধ্বনি নতুন করে উচ্চারিত হয়। বিজয়ের এই উদযাপন তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত করে। বিজয়ের ৫০ বছর নিয়ে তরুণরা জানাচ্ছেন তাদের আবেগ-অনুভূতি। 

গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ
দেশ বিজয়ের ৫০ বছরে এ সময়ে তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় অর্জন তারা একটি স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে পারছে। বঙ্গবন্ধুর এ স্বাধীন বাংলায় তারা একজন সফল নেতৃত্বদানকারী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সফলতার অংশীদার হচ্ছে। আধুনিক বাংলায় তথ্যপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পেয়ে আসছে। প্রপ্তির তুলনায় অপ্রাপ্তি নগন্য। তারা এ বিজয়ের মাসে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় দেশের সুনাম কিভাবে নষ্ট হয় সেটা খুব ভালভাবে অনুভব করছে। একটা সফল রাষ্ট্রকে কিভাবে ষড়যন্ত্র করে পিছনের দিকে নিয়ে যাওয়া যায় সেটাকে এ প্রজন্ম ইতোমধ্যে অনুধাবন করতে পারছে এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। আজ তরুণ প্রজন্মের কাছে শিক্ষা ব্যবস্থা, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতি দৃশ্যমান। বঙ্গবন্ধু সহ স্বপরিবারে হত্যা বিচারের অসম্পূতা এবং বিদেশে পলাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও আজ তাদের ফাঁসি কার্যকর অসম্পূর্নতা এ তরুণ প্রজন্মের কাছে একটা বড় অপূর্ণতা। সর্বোপরি এদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি, ইতিহাসের পাতার একজন অবিস্মরনীয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মত একজন স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী নেতাকে স্বচোখে দেখার সুযোগ না পাওয়াটা এ তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় অপ্রাপ্তি বলে আমি মনে করি।

ফাহাদ হোসেন তপু
সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
৭১ মানে কোনো সংখ্যা নয়, ৭১ মানে হলো আমাদের সবার কাছে একটি। ঠিক একইভাবে ৫০ আমাদের আরেকটি আবেগের সংখ্যা। কেননা আমার মাতৃভূমি-জন্মভূমির বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপনের মাহেন্দ্রক্ষণ এই সংখ্যা। তাই তো এই সংখ্যা আমাদের জন্য বিশেষ কিছু। বিজয়ের ৫০ বছরে পা দিয়েছে আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশ। কিন্তু আমরা এই স্বাধীনতা ও বিজয়ের মর্যাদা ঠিক কতোটা রক্ষা করতে পেরেছি তা একবার হলেও ভেবে দেখার সময় এসেছে। আমাদের উচিৎ সব ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়া।

রাকিবুল ইসলাম
অভিনেতা
আমরা নতুন প্রজন্মের তরুনরা বিজয় দেখিনি, কিন্তু এই বিজয়ের আত্মকথা শুনেছি এবং জেনেছি। তাই আমাদের ও উচিত জাতীয় আবেগ "মহান মুক্তিযুদ্ধ" সম্পর্কে সচেতন হওয়া। সবার মাঝে বিজয়ের আত্মকথা ছড়িয়ে দেওয়া। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তরুণকে মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি, দারিদ্র্য, সস্ত্রাস, যৌন নিপীড়ন ও অশিক্ষার বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশের এখনো অনেক শিক্ষিত যুবক বেকারত্ব নিয়ে হতাশ। বর্তমান যুবসামাজের চাওয়া যেনো কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে চায়। তাই তরুণরা মাঝে জাগ্রত করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ। এত শত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব তরুণদের।

খালিদ সাইফুল্লাহ্
গণমাধ্যমকর্মী ও আইটি বিশ্লেষক
২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে এসেছে আমাদের এই স্বাধীনতা। একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এসে দেশের প্রায় সকল সেক্টরে দুর্নীতি ও অনিয়ম দেখতে দেখতে এই প্রবাদটিই আমার মনে পড়ছে। ১৯৭১ সালে যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাগণ বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছেন সেই সোনার বাংলাদেশ আমরা এখনো পাইনি। আমরা এখনো উন্নত নাগরিক সেবা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত। দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রাপ্য সুযোগের অভাবে দেশের মেধাবীরা পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে। দেশের সামগ্রিক অবস্থার পরিবর্তন না ঘটলে এই ধারা চলতেই থাকবে। তাই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমার একমাত্র প্রত্যাশা এদেশ দুর্নীতিমুক্ত হোক।

দানিব বিন ইকবাল
আইন বিষয়ক পড়ুয়া শিক্ষার্থী  
বাংলাদেশ মানেই তরুণদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার নাম। এদেশ আমাদের জন্মভূমি কত শত বাঁধা পেরিয়ে, কত প্রাণের বিনিময়ে আমাদের এই আজকের বিজয়। বাংলার মাটিতে লুটপাট হয়েছিল মা বোনদের সম্ভ্রম। কি ভয়াবহ দিন অতিবাহিত করে, কত নির্যাতন সহ্য করে আমাদের জন্য বাংলার দামাল ছেলেরা ছিনিয়ে এনেছে এক টুকরো লাল সবুজের দেশ। পৃথিবীর সব স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা দিবস থাকলেও বিজয় দিবস থাকে না। বাংলাদেশ সেই বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী দেশ, যেটি বহু বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের পর রণাঙ্গনে শত্রুকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এ আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা, আমাদের চলার পাথেয়, আমাদের চেতনা৷

ইত্তেফাক/এমএএম/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সাত বার রিফাইনারির ডিপোতে বোম্বিং করে ধ্বংস নিশ্চিত করি

‘গ্রামবাসী দা-কুড়াল নিয়েই আমাদের সঙ্গে বাংকারে বসে গেল’

‘সুবর্ণজয়ন্তী অনলাইন কুইজ’ প্রতিযোগিতার নিবন্ধন চলছে 

রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনে ভারতের রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

‘বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বকে ভারত সবসময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে’

কর্মক্ষেত্রে কতটা সুরক্ষিত নারীরা

পাকিস্তানের ভুল ধরিয়ে দিলো ডন পত্রিকা

বিজয়ের শেষ মুহূর্তের কিছু ঘটনা