অবশেষে সার্জেন্ট মহুয়ার মামলা নিলো পুলিশ

চালক ও তার প্রভাবশালী বাবার নাম বাদ

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৩২

ঢাকায় গাড়ির ধাক্কায় অবসরপ্রাপ্ত এক বিজিবি সদস্যের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা করতে চেয়েও এত দিন পারছিলেন না তার পুলিশ সার্জেন্ট মেয়ে। অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তার মামলা নিয়েছে পুলিশ। তবে এজাহার থেকে গাড়িচালক ও মালিকের নাম বাদ দিতে হয়েছে। গত ২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মনোরঞ্জন হাজং। দুই দফা অস্ত্রোপচারে তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তিনি এখন বারডেম হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি।

মনোরঞ্জনের একমাত্র মেয়ে মহুয়া হাজং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সার্জেন্ট পদে কর্মরত। তার অভিযোগ, তার বাবা মনোরঞ্জন হাজংকে ধাক্কা দেওয়া লাল রঙের বিএমডব্লিউ গাড়িটির চালকের বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রথমে থানা তা নেয়নি। গতকাল বনানী থানার ওসি নূরে আজম মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলায় গাড়ি নম্বর উল্লেখ আছে। পাশাপাশি চালক ও দুই সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। তবে তাদের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি।

মহুয়া হাজং সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ৩ ডিসেম্বর অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে রেখে বনানী থানায় গিয়েছিলেন তিনি। থানার একজন পরিদর্শক তাকে বলেন, তোমার চাকরির বয়স তো অল্প দিন। এ সমস্ত বিষয় নিয়ে বেশি মাতামাতি করো না, বিপদে পড়ে যাবা। আমি তো তোমার চেয়ে সিনিয়র, আমার কথা শোনো। এমন কথা শোনার পর সার্জেন্ট মহুয়া থানা থেকে চলে যান। তিনি বলছেন, এজাহারে সেই গাড়িচালক এবং তার ‘প্রভাবশালী’ বাবার নামও তিনি লিখেছিলেন। কিন্তু থানা মামলা নেয়নি। যারা দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে সমঝোতা করার জন্য চাচ্ছে, তাদের আকার-ইঙ্গিতে এটা বুঝতে পেরেছি। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য মনোরঞ্জন হাজং গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। 

ঐ দুর্ঘটনার খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারও করা হয়। এসব খবরের ভিডিওতে দেখা যায়, ২ ডিসেম্বর রাত ২টার পর বিমানবন্দর সড়কে মোড় ঘোরার জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মনোরঞ্জন হাজং। একটি গাড়ি এসে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার পর মনোরঞ্জন হাজংকে উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতালে) ভর্তি করে পুলিশ। গত ৩ ডিসেম্বর মনোরঞ্জনের ডান পায়ের গোড়ালি কেটে ফেলেন চিকিত্সকেরা। কিন্তু সংক্রমণ ছড়ালে পাঁচ দিন পর ৮ ডিসেম্বর আবারো অস্ত্রোপচার করে ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়।

হৃদরোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিস রয়েছে ষাটোর্ধ্ব মনোরঞ্জনের। সব বিবেচনায় পরে তাকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বারডেম হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক নাজিমুল ইসলাম বলেন, মনোরঞ্জন হাজংকে আইসিইউতে রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। ঐ এলাকার একটি সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পর একটি লাল রঙের বিএমডব্লিউ গাড়ি জনতা আটক করে পুলিশে দেয়। গাড়ির চালকের ছবিও দেখানো হয়। তখন গাড়ি চালাচ্ছিলেন একজন শিল্পপতির ছেলে। পরে গাড়িসহ তাকে পুলিশ ছেড়ে দেয় বলে জানা গেছে।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি