বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কুয়েট শিক্ষকের লাশ ফের দাফন

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৫৭

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক ড. সেলিম হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পুনরায় দাফন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে তার মরদেহ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাঁশগ্রাম কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বুধবার কবর থেকে লাশ তুলে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সেলিমের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

এ সময় লাশের সঙ্গে খুলনা খানজাহান আলী থানার ওসি প্রদীপ কুমার বিশ্বাসসহ ৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। লাশ পৌঁছানোর পর কুমারখালী থানা পুলিশ ও খুলনার খানজাহান আলী পুলিশের উপস্থিতিতে ড. সেলিম হোসেনকে পুনরায় দাফন করা হয়।

কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান তার লোকজন নিয়ে গত ৩০ নভেম্বর ড. সেলিমের কক্ষে প্রবেশ করে অশালীন আচরণ এবং তাকে মানসিক নির্যাতন করেন। এর ফলে তিনি ৩০ নভেম্বর দুপুর ৩টায় মারা যান। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সেজানসহ উপস্থিত লোকজন তাদের মনোনীত প্রার্থীকে ডাইনিং ম্যানেজার নির্বাচন করার জন্য হল প্রভোস্ট ড. সেলিম হোসেনকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ৩০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগ কর্মীরা ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিম হোসেনকে জেরা করা শুরু করেন। এরপর তারা ওই শিক্ষককে ধরে নিয়ে তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করেন।

সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধ ঘণ্টা ওই শিক্ষকের রুমে ছিলেন। পরে ড. সেলিম দুপুরে খাবার খেতে ক্যাম্পাস সংলগ্ন বাসায় যান। দুপুর ২টার দিকে তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন রিক্তা লক্ষ্য করেন তিনি বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। পরে তিনি দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন এবং খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন। শিক্ষক সেলিমের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে দোষীদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিসহ সাত দফা দাবিতে গত ২ ডিসেম্বর দুপুরে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে শিক্ষক সমিতি। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান শিক্ষকরা। এ ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ১ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুয়েট বন্ধ ঘোষণা এবং ঐ দিন বিকাল টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১২ ডিসেম্বর ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি বৃদ্ধি করা হয়।

এদিকে, শিক্ষক সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গত ২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ ৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতরা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এছাড়া পাঁচ সদস্যের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হলেও তারা এখনো রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি। 

ইত্তেফাক/এমআর