কোভিড চিকিৎসায় আশার কথা শুনিয়েছে ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সি বা ইএমএ। এক টুইটবার্তায় বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) তারা জানিয়েছে, নতুন তিনটি ওষুধের মধ্যে দুইটি ওষুধ কোভিডের সাধারণ চিকিৎসায় এবং একটি ওষুধ শুধুমাত্র অতি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে। শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) জার্মান ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ভেলে তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
টুইট বার্তায় ইএমএ জানিয়েছে, প্রথম ওষুধটির নাম জেভুডি। যুক্তরাজ্যের ওষুধ প্রস্তুতকারক গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন এবং মার্কিন সংস্থা বির বায়োটেকনোলজি যৌথ উদ্যোগে এই ওষুধটি তৈরি করেছে। বৈজ্ঞানিক ভাষায় ওষুধটি মোনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি মেডিসিন। ইএমএ এর মতে, এই ওষুধ ব্যবহার করলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন অনেকটাই কমানো যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। গবেষণাগারে তৈরি প্রোটিনজাত এই ওষুধ প্রথমে কোভিডের চিকিৎসার জন্য তৈরি হয়নি। তবে এর আগে ইএমএ এই ধরনের আরো দুইটি ওষুধকে ছাড়পত্র দিয়েছিল।
দ্বিতীয় ওষুধটির নাম কিনারেট। সুইডেনের ফার্মা কোম্পানি বায়োভিটরাম তৈরি করেছে এই ওষুধটি। শ্বাসনালীর জন্য তৈরি হয়েছে এই ওষুধ। কোভিড ভাইরাস শ্বাসনালীর মধ্য দিয়ে গিয়ে ফুসফুসে বাসা বাঁধে। সে কথা মাথায় রেখেই শ্বাসনালীকে ভাইরাসমুক্ত রাখার জন্য তৈরি এই ওষুধ কোভিডের চিকিৎসায় যথেষ্ট কার্যকরী বলে মনে করছে ইএমএ।
তৃতীয় ওষুধটি তৈরি করেছে ফাইজার। এই ওষুধটি নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তবে ইএমএ জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে এই ওষুধটি দেওয়া যেতে পারে। তবে ছোটদের জন্য এই ওষুধ নয়। যাদের অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হচ্ছে না কেবল তাদেরই এই ওষুধ দেওয়া যাবে। ওষুধের নাম প্যাক্সলোভিড। কোভিডের লক্ষ্যণ দেখা দেওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে এই ওষুধের ব্যবহার শুরু করে দিতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংস্থা ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সি। তারা ছাড়পত্র দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় কমিশনকে ছাড়পত্র দিতে হবে। তারপরেই বাজারে আসবে তিনটি নতুন ওষুধ। ওমিক্রন নিয়ে ব্যতিব্যস্ত ইউরোপ। ফ্রান্স যুক্তরাজ্য থেকে সে দেশে ঢোকার ব্যাপারে কড়াকড়ি শুরু করেছে। জার্মানি সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কোভিডের চতুর্থ ঢেউ চলছে। এই পরিস্থিতিতে তিনটি নতুন ওষুধ মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে।
EMA recommends authorising the #monoclonalantibody Xevudy for the treatment of #COVID19 in adults and adolescents.
