দেশের চলচ্চিত্রে খল-নায়ক হিসেবে নিজের অবস্হান ধরে রেখেই নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন অভিনেতা মিশা সওদাগর। পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি হিসেবও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নিজের চলচ্চিত্র ব্যস্ততা, শিল্পী সমিতির নির্বাচনসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা দিক নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল।
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই
‘কুস্তিগির’, ‘মাফিয়া’, ‘আগুন’, ‘রিভেন্স’ ‘মাফিয়া রানি’, ‘বাজিগর’, ‘আকবর’, ‘প্রেম প্রীতি বন্ধন’, ‘লিডার: আমিই বাংলাদেশ’সহ বেশ কয়েকটি ছবির কাজ হাতে রয়েছে। এছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, ‘শান’, ‘বিদ্রোহী’, ‘দিন: দ্য ডে’, ‘বাহাদুর’, ‘অমানুষ’ ছবিগুলো।
একই সঙ্গে এতগুলো ছবিতে অভিনয় করলে এক চরিত্র থেকে বের হয়ে অন্য চরিত্রে ঢোকা কতটা চ্যালেঞ্জিং?
চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করার মতো আমাদের প্রোডাকশন কোথায়? তাছাড়া যে চরিত্রেই অভিনয় করি না কেন, আমি মিশাই তো অভিনয় করছি। শুধু গেটআপ পরিবর্তন করতে হচ্ছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এত ছবিতে অভিনয় করেছি যে, কোনো চরিত্রকেই নতুন মনে হয় না। তাছাড়া এখন এমন ছবি হচ্ছে না যে হাউজফুল হবে। আমি ‘নূরা পাগলা’ ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছিলাম। যে ছবি দীর্ঘদিন হাউজফুল করেছে। এটাকে বলে চ্যালেঞ্জিং!
বর্তমানে গল্পনির্ভর কাজ বেশি হচ্ছে। এই চর্চা চলচ্চিত্রের ধারাবদল করছে কি-না?
না, আমার সেটা মনে হচ্ছে না। কোনো ঘরানার ছবিই দর্শকরা দেখছেন না। আবার গল্পের প্রয়োজনের বাইরে অ্যাকশন থাকলেও তো হবে না। আর গল্পনির্ভর কাজ যেগুলো হচ্ছে সেগুলো যদি দর্শক গ্রহণ করতো তাহলে সেটাকে পরিবর্তন বলা যেত, কিন্তু সেটা হচ্ছে কই! একটি ছবির সঙ্গে বাণিজ্যিক বিষয়টিও জড়িত থাকতে হবে। শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করলেই সেটা ছবি না। তবে তারা বানাবে না সেটা বলছি না।
শোনা যাচ্ছে, শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নতুন প্যানেল গড়তে যাচ্ছেন। এর সত্যতা কতটুকু?
না, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি খুব কৃতজ্ঞতা পরায়ণ একজন মানুষ। আমার বর্তমান কমিটির ২০ জন নাবিক আমাকে যে সহযোগিতা করেছেন এবং আমাদের সদস্য তাদের ভালোবাসা, সমর্থন দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন সেটা ভোলার নয়। এমন কোনো কারণে নেই, যাতে এই প্যানেলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করবো। নির্বাচন করলে বর্তমান প্যানেল থেকেই করব। না করলে কোনো প্যানেলেই করব না।
নিপূণের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ভালো ছিল। কিন্তু তিনিও আলাদা প্যানেল গড়ছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন।
একজনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলেই যে একই প্যানেলে নির্বাচন করবে বিষয়টি তেমন না। এটা একটা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এখানে যেকোনো পূর্ণ সদস্য সেবা করার জন্য নির্বাচন করতেই পারে। এটাকে সাধুবাদ জানাই। সদস্যরা যাকে সম্মান দেবে সে-ই সেবা করবে। আমরা তো একটি পরিবার। এখানে সম্পর্ক ভালো খারাপ বলে কিছু নেই।
পরীমনির সদস্যপদ স্হগিত করেছিলেন। এবার ইমনও অসহযোগিতার অভিযোগ আনলেন শিল্পী সমিতির বিরুদ্ধে। এই অভিযোগগুলো নিয়ে কী বলবেন?
আমি আমেরিকা থেকে ফিরেই ১০ তারিখ ইমনকে কল করেছিলাম। এমনকি তাকে এসএমএসও করেছি। বলেছি, শিল্পী সমিতি তার পাশে সবসময় থাকবে। এসএমএসের উত্তর না পাওয়ায় তাকে কল করে বলেছি, যেকোনো প্রয়োজন হলে আমাকে বলবি। শিল্পী সমিতি তোর পাশে আছে। তারপরও কেন ও অভিযোগ করেছে তা আমার বোধগম্য না।
শাকিব-মিশা জুটির বাইরে নতুন জুটি তৈরি হচ্ছে না কেন?
এটা নির্মাতারা ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার মনে হয়, নির্মাতারা নতুন জুটিকে সেভাবে তুলে ধরতে পারছেন না। তাছাড়া দর্শকরা যদি গ্রহণ করেন তবে যেকোনো জুটিই জনপ্রিয়তা পাবে। পুরোটাই দর্শকদের হাতে।
নায়ক-ভিলেন সংকট দীর্ঘদিনের। আপনারা ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রম নিয়েও একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছেন। আসলে কবে এটা আলোর মুখ দেখবে?
এর আগেও বলেছি, আমি মনে-প্রাণে চাই নতুন মুখের সন্ধানে আবার চালু হোক। আমি নিজেও তো সেখান থেকেই আজকের অবস্হানে এসেছি। এটা তো তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
