চিকিৎসা খরচ

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৫৩

বছর ঘুরতে না ঘুরতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পাশাপাশি ওষুধপত্রের দাম ও চিকিৎসা খরচ বেড়েই চলেছে। ক’দিন আগেও একজন চিকিৎসকের ফি ছিল ২০০ টাকা, তা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। এদিকে মাত্র এক বছরেই ২০ থেকে ৫০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ওষুধপত্রের। প্রেশার, ডায়াবেটিস, গ্যাসট্রিক, অ্যালার্জি ও হাঁপানিসহ নানা জটিল রোগে যারা আক্রান্ত, তাঁদের কিংবা তাঁদের পরিবারে ওষুধ কিনতে গিয়ে সংসার-খরচে টান পড়ে যাচ্ছে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, করোনা অতিমারি কালে মানুষের রোজগার হ্রাস পেয়েছে, নতুন রোজগার বন্ধ হয়ে বিকল্পের সন্ধানে কালঘাম ছুটছে—সেই সময় পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ওষুধের দাম। বিষয়টি সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন। কেউ কোনো আপত্তি করেননি বলে পরবর্তী সময়ে ওষুধ কারবারিরা ধরে নিয়েছেন, অধিক মূল্যেও মানুষ কোনো রকম প্রশ্ন না তুলেই সেই ওষুধ কিনবে খোলা বাজার থেকে। একইসঙ্গে ওষুধ কারবারিদের মুখের কথাতেই উঠে আসে অত্যধিক চাহিদার কথাও। করোনা অতিমারির সময় আতঙ্কে সদি-কাশিসহ জ্বর প্রভৃতির জন্য নানাবিধ ওষুধ ক্রয় করে মজুত রাখতে ক্রেতাদের হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল।

যেসব বাড়িতে ক্রনিক ডিজিজে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন, তাদের কাছে চিন্তার বড় কারণ ছিল প্রয়োজনীয় ওষুধ দোকান থেকে কেনার সময় কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে না তো। করোনার অতিমারি সবাইকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছিল। সেই সময় অনলাইনেও ওষুধ কেনাকাটা করার সুযোগ সীমিত হয়ে দাঁড়ায়। সব মিলিয়ে ক্রেতারা ওষুধের দামের দিকে বিশেষ নজর দেয়নি। অন্তত মাস দুয়েকের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কিনে রেখেছিলেন বহু মানুষ। 

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পরই টনক নড়ে ওষুধ ক্রেতাদের। পরিবারের ওষুধ খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ততদিনে অনেকটাই বেড়ে যায় সমস্ত ওষুধের দাম ও চিকিৎসকের রোগী দেখার ফি। ওষুধের দাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৬ শতাংশ, কোনো ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেড়েছে। বহু পরিবারকেই বিপদে পড়তে হচ্ছে, যাদের পরিবারে দীর্ঘ সময় ধরে রোগে আক্রান্ত  ব্যক্তি রয়েছেন। মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়, এমন পরিবারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ওষুধের খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বাড়ায় বিপুল আর্থিক সমস্যার বোঝা চাপছে পরিবারের উপার্জনকারী ব্যক্তিদের কাঁধে।

বর্তমান সময়ে ওষুধের দাম ঊর্ধ্বমুখী। শুধু তাই নয়, ওষুধ আসল না নকল—এ নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন ওষুধ ক্রেতারা। প্রেশার, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত ওষুধের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বড়সড় বোঝা চাপিয়েছে এই দাম বৃদ্ধি। শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য প্রয়োজন হয় ইনহেলার। সেই ইনহেলারের দাম বেড়েছে। উদ্বেগজনকভাবে ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিশেষ কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না। দেশে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রকের কোনো বক্তব্য গণমাধ্যমে চোখে পড়ে না। দেশে বড় বড় ওষুধ প্রস্তুতকারীর কাঁচামাল আসে বিদেশ থেকে।

কেউবা বলছেন, কাঁচামাল প্যাকেজিংয়ের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বাড়ছে ওষুধের। এদিকে সন্ধান করাও হচ্ছে না দেশে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনেরও। তবে আগামী দিনে ওষুধের দাম যে আরও বাড়বে তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। কারণ এতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে একটি উপায়ে ওষুধের দাম খানিকটা হ্রাস করা যেতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহল বলছেন, তা হলো শুল্ক হ্রাস করে।

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন