বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তরুণীর পেটে কাঁচি রেখে সেলাই, ‘ঘটনায় কেউ দায়ী নয়’

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২১, ২১:২৭

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মনিরা খাতুন (১৮) নামে সেই তরুণীর অস্ত্রোপচারের পর পেটে কাঁচি রেখে সেলাই করার বছর পর তা বের করার ঘটনার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। তবে এই প্রতিবেদনে এ ঘটনার জন্য কে দায়ী, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। কিংবা কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়নি। 

গতকাল সোমবার হাসপাতালের পরিচালকের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান হাসপাতালের পরিচালক সাইফুর রহমান।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, তদন্ত কমিটি কার গাফিলতিতে পেটে কাঁচি রাখার ঘটনাটি ঘটেছে, তা শনাক্ত করতে পারেনি। পাশাপাশি ওই অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত কারও ব্যাপারে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০২০ সালের ৩ মার্চ সার্জারি ইউনিট-দুই এর দায়িত্বে নিয়োজিত সহযোগী অধ্যাপক মোল্লা সরফউদ্দিনের অধীনে এ অস্ত্রোপচারের সময় আরও তিন-চারজন চিকিৎসক অংশ নেন। তবে কার গাফিলতিতে এ ঘটনা ঘটেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন জার্নালের উদ্বৃতি দিয়ে সেখানে বলা হয়েছে, এ জাতীয় ঘটনা অপ্রতুল নয়। এমন নয়, এটিই প্রথম ঘটেছে। এর আগেও বিভিন্ন দেশে অস্ত্রোপচারের সময় এ জাতীয় ঘটনা ঘটেছে। 

পরিচালক সাইফুর রহমান ওই প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, গঠিত তদন্ত কমিটি এ ব্যাপারে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- অস্ত্রোপচারের সময় একজন নার্সকে যন্ত্রপাতির দায়িত্বে নির্দিষ্টভাবে নিয়োজিত করা। পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয় ও আয়াদের আরও অধিক দায়িত্বশীল হওয়ায় পরামর্শও সেখানে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

এই বিষয়ে তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য ডা. কামরুল হাসান এই প্রতিবেদককে জানান, আমরা তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি, সেটাই প্রতিবেদনে জানিয়েছি। এবং অস্ত্রোপচার করা ওই টিমের গাফলতি ছিল সেটা তারাই স্বীকার করে নিয়েছে। এখন কারো শাস্তি হবে কিনা বা কি শাস্তি দেয়া হবে তা হাসপাতাল প্রশাসন বলতে পারবে। তদন্ত কমিটি তো আর কাউকে শাস্তি দিতে পারে না। এই ঘটনায় কার গাফলতি রয়েছে সেটা পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরো টিমেরই গাফলতি ছিল, এবং সেটা তারা স্বিকার করে নিয়েছে, এরপরেও তো আর সেটা তদন্ত কমিটির বলার কিছু থাকে না।

উল্লেখ্য, পেটে কাঁচি রেখে সেলাই করার ঘটনায় গত রবিবার (১২ ডিসেম্বর) গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। ওই কমিটির সভাপতি হলেন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুল হাসান। অপর দুই সদস্য হলেন গাইনি বিভাগের অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা ও সার্জারি বিভাগের মো. কামরুজ্জামান।

প্রসঙ্গত, মনিরা খাতুন (১৮) গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের বাসিন্দা খাইরুল মিয়ার মেয়ে। তরুণীটি মেজিনট্রিক ফিস্ট (রক্তের দলা) জনিত সমস্যা নিয়ে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন ২০২০ সালের মার্চে। এরপর ৩ মার্চ সার্জারি বিভাগ ইউনিট টু-তে এ সমস্যার জন্য তার অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই সময় চিকিৎসকদের অজ্ঞাতসারে অস্ত্রোপচারের কাজে ব্যবহৃত ছয় ইঞ্চি লম্বা অর্টারি ফরসেপ পেটের মধ্যে রেখে সেলাই করা হয়। বিষয়টি জানার পর ২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বর শনিবার ওই হাসপাতালেই পুনরায় অস্ত্রোপচার করে তরুণীর পেট থেকে কাঁচিটি বের করা হয়।

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বোয়ালমারীতে বস্তাবন্দী নারীর লাশ উদ্ধার

ফরিদপুরে সাড়ে ৪ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ

ফরিদপুরে তিনশ লিটার সয়াবিন জব্দ, ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটকে শক্তিশালী করা হচ্ছে: এনামুল হক শামীম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ভাঙ্গায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

সদরপুরে নবাগত ইউএনওর সঙ্গে শিক্ষকদের মতবিনিময়

ভাঙ্গায় ফ্লাইওভারের ওপর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার 

ভাঙ্গায় অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার