বিবাহিত ছাত্রীদের হলে না থাকার বিধি বাতিলে লিগ্যাল নোটিশ 

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, ২১:৩৪

কোনো ছাত্রী বিবাহিত এবং অন্তঃসত্ত্বা থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলে তার সিট বাতিল হবে মর্মে বিধান জারি করা হয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়েরে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আজ বুধবার (২২ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি আইনজীবী নিজে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, শামসুন নাহার হল, কুয়েত-মৈত্রী হল ও সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্টের কাছে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক বিধানটি বাতিল করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, ‘সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ছাত্রী হলে বিবাহিত হওয়ার কারণে কতিপয় ছাত্রীর আবাসিক সিট বাতিল করা হয়েছে। শামসুন নাহার হলের আবাসিক ছাত্রীদের সিট বণ্টন সম্পর্কিত ও অন্যান্য শৃঙ্খলামূলক নিয়মবিধির ১৬ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, ‘কোনো ছাত্রী বিবাহিত হলে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাবে। অন্যথায় নিয়ম ভঙ্গের কারণে তার সিট বাতিল হবে। শুধু বিশেষ ক্ষেত্রে, বিবাহিত ছাত্রীকে চলতি সেশনে হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী হলে থাকতে পারবে না।’

এতে আরও বলা হয়, ‘এই বিধানের ফলে কার্যত বিবাহিত শিক্ষার্থীরা হলের আবাসিক সুবিধা গ্রহণ করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

‘বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারাত্মক অসন্তোষ এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এমন বৈষম্যমূলক বিধান থাকার বিষয়টি প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হচ্ছে।’

লিগ্যাল নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং ২৮ (১) ও (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। রাষ্ট্র ও গণজীবনের সববস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবে। কিন্তু বিবাহিত ছাত্রীদের জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন নিয়ম নারীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথে প্রতিবন্ধকতা এবং সংবিধানের ২৭ এবং ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

ইত্তেফাক/কেকে