ফাইনালের বাঁশি বাজল। সেই সঙ্গে খেলোয়াড়েরাও এক জন আরেক জনকে জড়িয়ে উল্লাসে মেতে উঠলেন। গ্যালারিতে উঠল আনন্দের ঢেউ। মাঠে ঢুকে গেলেন কোচ-কর্মকর্তারা। মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরনকে কোলে করে উঁচিয়ে ধরলেন মারিয়া মান্দারা। দীর্ঘদিন পর আবার নারী ফুটবলে ট্রফি এসেছে।
কমলাপুর স্টেডিয়ামের এই মাঠে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এবার যারা চ্যাম্পিয়ন হলেন, তাদের দলের বেশির ভাগই জাতীয় মূল দলের খেলোয়াড়। বয়সটাও খুব বেশি নয়। ঘুরেফিরে এই ফুটবলাররা জাতীয় দলের মুখ। তবে আফসোস হচ্ছে, অনেক দিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ট্রফি পাচ্ছিল না বাংলাদেশ। সেই আক্ষেপ পূরণ করেছেন নারী ফুটবলাররা। বলতেই হয়, একটি জয় পালটে দিয়েছে মারিয়া মান্দাদের। স্বাধীনতার ৫০ বছরে রজতজয়ন্তী পালন করছে বাংলাদেশের মানুষ। তাই সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা দেশবাসীকে উত্সর্গ করলেন অধিনায়ক মারিয়া মান্দা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে সবাইকে আমরা চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উপহার দিলাম। দেশের মাটিতে খেলা, অনেক দর্শক এসেছিল মাঠে। তাদের আমরা ভালো খেলা উপহার দিলাম। সবাইকে ধন্যবাদ, তারা আমাদের সমর্থন দিয়েছে। অনেক ভালো লাগছে, আমরা তাদের শিরোপা উপহার দিতে পেরেছি।’
টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৫ গোল করে সেরা শাহেদা আক্তার রিপা। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও তার হাতে। টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিক করেছেন রিপা। হ্যাটট্রিকের ৩ গোলই ছিল দেখার মতো। দূর থেকে লং বলে হ্যাটট্রিক করার ছবিটা নারী ফুটবলে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শাহেদা আক্তার রিপা বলেন, ‘সবাই আমাদের সমর্থন করেছে, আমরাও এর প্রতিদান দিতে পেরেছি| এতটা পারব বুঝতে পারিনি।’ মাঝ মাঠের অতন্দ্র প্রহরী মনিকা চাকমা বললেন, ‘আমরা মাঠে কঠিন পরিশ্রম করেছি। মারিয়ার সঙ্গে আমার বোঝাপড়া খুব ভালো। আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, খুব ভালো লাগছে।’
রক্ষণে সবার নজর কেড়েছেন ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন। গলায় পদক ঝুলছিল, হাসতে হাসতে বলেন, ‘শুরুতে আমার পজিশন ডিফেন্স ছিল না, স্ট্রাইকার বা রাইট উইংয়ে খেলতাম। পরে কোচরা আমাকে যে পজিশনে খেলিয়েছেন, সেখানে খেলেছি। আমরা অনূর্ধ্ব-১৫, ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯—এই পর্যায়ে একসঙ্গে আছি। ফলে অনেক দিন একসঙ্গে থাকায় আমাদের বোঝাপড়া অনেক।’ দুই ম্যাচে ৩ গোল করা আফিদার এমন আনন্দের কথা বলে বোঝানো যাবে না।
