কক্সবাজারে নারী পর্যটককে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের ঘটনায় হোটেল ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটন (৩৩) নামে একজনকে আটক ও তিনজনকে শনাক্ত করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন- কক্সবাজার শহরের মধ্যম বাহারছড়া এলাকার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে আশিকুল ইসলাম (২৩), মোহাম্মদ শফিক প্রকাশ গুন্ডা ওরফে শফির ছেলে ইসরাফিল হুদা জয়া। তবে অপরজনের পরিচয় জানাতে পারেনি র্যাব।
২২ ডিসেম্বর রাতে শহরের লাবণী পয়েন্ট থেকে নারী পর্যটককে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। খবর পেয়ে শহরের লাইট হাউস এলাকার জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেল থেকে ওই পর্যটককে উদ্ধার করে র্যাব।
ধর্ষণের শিকার ওই নারী গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার সকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজারে বেড়াতে যান তারা। ওঠেন শহরের হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে। বিকেলে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ঘুরতে গিয়ে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগলে কথা কাটাকাটি হয়। সন্ধ্যায় পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার ৮ মাসের সন্তান ও স্বামীকে অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যায়। আরেকটি অটোরিকশায় তিন যুবক তাকে তুলে নিয়ে যায় পর্যটন গলফ মাঠের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে। সেখানে পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর তাকে নেওয়া হয় জিয়া গেস্ট ইন নামে একটি হোটেলে। সেখানে ইয়াবা সেবনের পর আরেক দফা তাকে ধর্ষণ করেন ওই তিন যুবক। এই ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে হত্যা করা হবে জানিয়ে রুম বাইরে থেকে বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
ওই নারী আরও জানায়, জিয়া গেস্ট ইনের তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে এক যুবকের সহায়তায় কক্ষের দরজা খোলেন তিনি। তারপর ফোন দেন ৯৯৯-এ। পুলিশ তাকে থানায় সাধারণ ডায়রি করার পরামর্শ দেয়। আরেকজনের সহযোগিতায় কল দেন র্যাবকে। র্যাব অভিযান চালিয়ে নারীকে উদ্ধার করে পর্যটন গলফ মাঠ এলাকা থেকে স্বামী ও সন্তানকে উদ্ধার করে।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর সিপিসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হোটেল জিয়া গেস্ট ইনের ম্যানেজারকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
