বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

টাকা না দিলে প্রকাশ্যে গুলি করতো জিসানের ক্যাডাররা

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:৩৭

দুবাইয়ে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের ক্যাডাররা টাকার প্রয়োজন হলে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের টার্গেট করতো। এক লাখ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিমাণের টাকা চাঁদা দাবি করতো। টাকা দিতে না পারলে পরিবারসহ নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীকে মেরে ফেলার হুমকি দিত তারা। এতেও কেউ কেউ টাকা না দিলে প্রকাশ্যে গুলি করতো জিসানের ক্যাডাররা।

এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জিসানের সাত ক্যাডারকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। গ্রেফতাররা হলেন মো. নাসির, কাওছার আহমেদ ইমন, মোহাম্মদ জীবন হোসেন, মো.ওমর খৈয়াম নিরু, ফারহান মাসুদ সোহান, মো. আসলাম ও মো. মহিন উদ্দিন জালাল।

সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার। 

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, গত ১৯ নভেম্বর পূর্ব বাড্ডা আলিফ নগর এলাকার জেনারেটর ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম খান ওরফে টুটুলকে অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি ফোন করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা সঠিক সময়ে না দিলে সন্তানসহ পরিবারের ওপরে হামলা করা হবে বলে হুমকি দেয়। পরে গত ২১ নভেম্বর বিকেল ৩ টা ১০ মিনিটে জেনারেটর ব্যবসায়ী টুটুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন ব্যক্তি প্রবেশ করে চাঁদার টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলি করে চলে যায়। সন্ত্রাসীরা আবারও ফোন করে দাবি করা চাঁদার ৫ লাখ টাকা দাবি করে। পরে টুটুল বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় মামলা রুজু করেন। মামলাটি ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। 

মামলাটি তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর রামপুরা এলাকা থেকে সন্ত্রাসী মো. নাসিরকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) ধারাবাহিক অভিযানে রাজধানীর বাড্ডা ও বান্দরবান জেলা থেকে বাকি ৬ চাঁদাবাজ কাওছার, জীবন, নিরু, সোহান, আসলাম ও মহিনউদ্দিনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের জোনাল টিম। গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত থেকে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩ রাউন্ড গুলি এবং ৬ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

গ্রেফতাররা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, দুবাইয়ে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও তার ভাই শামিম এবং কাশিমপুর কারাগারে থাকা ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী মামুনের ক্যাডার ইমন, জীবন এবং নিরুর টাকার প্রয়োজন হলে তারা এলাকার বড় ভাই মো. মহিনউদ্দিন জালালের কাছে যায়। তাদেরকে একটি ‘কাজ’ অর্থাৎ ‘টার্গেট’ দেওয়ার জন্য বলে। পরবর্তীতে মো. মহিনউদ্দিন জেনারেটর ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম খান ওরফে টুটুলের খোঁজ দেয়। নীরু, জীবন, ইমন কাজটি করার জন্য বাসের হেলপার নাসিরকে ঠিক করে। কিভাবে গুলি করতে হবে তা নাসিরকে ক্যাডার জীবন শিখিয়ে দেয়। 

সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা টুটুলের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কয়েকবার টুটুলকে চাঁদার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরের টুটুল টাকা না দিলে তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গিয়ে গুলি ছুড়ে চাঁদাবাজরা। এ ঘটনার পর টুটুল ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে মামলাটি করেন।

গ্রেফতারতরা দুবাই প্রবাসী চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের ক্যাডার বলে স্বীকার করে। তথ্য প্রযুক্তির উপাত্ত বিশ্লেষণে দুবাই প্রবাসী চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় বলেও জানান ডিবি কর্মকর্তা। 

ইত্তেফাক /কেএইচ/এসআই

ইত্তেফাক/এসআই