কুবি ছাত্র হত্যাকাণ্ড

সাড়ে পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি মামলার তদন্ত

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:৩৫

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের কোন্দলে গুলিতে নিহত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কুবি বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খালিদ সাইফুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। সদর দক্ষিণ মডেল থানা, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির পর ফের গত ১০ মাস ধরে মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই। নিহত খালিদ জেলার দাউদকান্দি উপজেলা সদরের স্কুলশিক্ষক জয়নাল আবেদীনের ছেলে। মামলার অভিযোগ ও তদন্ত সংস্হা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের শোকাবহ ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে মোমবাতি প্রজ্বলনের সময় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে গুলিতে আহত হন খালিদ সাইফুল্লাহ। এদিন কুমিল্লা মেডিক্যাল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্হায় ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহত খালিদের মা ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। ঘাতকের নির্মম বুলেট সব স্বপ্ন-আশা চুরমার করে দিয়েছে। ছেলেকে হত্যার জন্য যারা দায়ী তারা আমাকে বিভ্রান্ত করে ও খালিদের বাবাকে ভুল বুঝিয়ে এক বার আদালতে নিয়ে ডিবির চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি দিতে বাধ্য করেছে। দ্বিতীয় বার ঐ চক্রটি আমার স্বাক্ষর জাল করে, আমি হাসপাতালে আছি বলে পিবিআইয়ের তদন্তে নারাজি দিয়ে সিআইডিতে মামলা নিয়েছে। ওরা এখন আমার ছেলের লাশ নিয়ে রাজনীতি করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘২০২০ সালের শেষ দিকে আমি আদালতে গিয়ে প্রকৃত আসামিদের নাম যুক্ত করার আবেদন করেছি। ঐ আবেদনের ভিত্তিতে জড়িত সব আসামিদের নাম যুক্ত করে পিবিআই চার্জশিট দিবে এবং এতে আমরা ন্যায়বিচার পাব বলে আশা করছি।’ নিহত খালিদের বাবা স্কুলশিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘২০১৯ সালের অক্টোবরে বুয়েট ছাত্র আরবার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে ২০ জনের ফাঁসির রায় হয়েছে। কিন্তু গত সাড়ে পাঁচ বছরেও আমার ছেলে হত্যা মামলার তদন্তই শেষ হয়নি। এ ব্যাপারে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।’

মামলার বাদী বর্তমানে কুবির সহকারী রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা) সাদেক হোসেন মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালিদ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এটা আমরা চাই। তবে ডিবি, সিআইডি ও পিবিআই কতৃ‌র্ক দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে আমি কখনো নারাজি আবেদন করিনি, নিহতের মা সবকটি নারাজি দিয়েছেন। তাই এ পর্যন্ত মামলার তদন্ত শেষ হয়নি।’ মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই-কুমিল্লার পরিদর্শক মিন্টু দত্ত বলেন, ‘এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামিরা এখন জামিনে আছেন। চলতি বছরের ফেব্র‚য়ারি মাস থেকে পুনরায় মামলাটির তদন্ত করছি। এর আগে প্রতিটি সংস্থা তাদের তদন্তে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। কিন্তু আসামির সংখ্যা বাড়াতে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে নারাজি দেওয়ায় বারবার তদন্ত সংস্হা পরিবর্তন হয়েছে। আশাকরি শিগ্গির তদন্ত শেষ করা সম্ভব হবে।’

ইত্তেফাক/কেকে