শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় ৪৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:৪৬

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেনের কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন ৫ সদস্যের কমিটি । কুয়েটের জনসংযোগ ও তথ্য শাখার সেকশন অফিসার মো. রবিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন ।

তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ৪৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিটি। প্রতিবেদনের সঙ্গে ১৩টি সংযুক্তি রয়েছে। তদন্ত কমিটির সভাপতি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ,  সদস্য গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আলহাজ উদ্দিন, সদস্য কুয়েটের অধ্যাপক ড. খন্দকার মাহবুব, বহি:সদস্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) শাহাবুদ্দীন আহমেদ, খুলনা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বসাক ভাইস-চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কেউ দোষী প্রমাণীত হলে পরে সিন্ডিকেট সভায় তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, কুয়েটের লালনশাহ হলের ডিসেম্বর মাসের খাদ্য-ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন নিয়ে, ফজলুল হক হলের বর্ডার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান তার অনুগতদের ডাইনিং ম্যানেজার নির্বাচিত করার জন্য ৩০ নভেম্বর ড. মো. সেলিমের দাপ্তরিক কক্ষে অশালীন আচরণ ও মানুষিক নির্যাতন করে। সাধারণ সম্পাদকসহ উপস্থিত ছাত্ররা হলের প্রভোস্ট ড. সেলিম হোসেনকে বেশ কয়েকদিন ধরে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচন করার জন্য। তারই ধারাবাহিকতায়, ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে সাদমান  নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্ররা ক্যাম্পাসের রাস্তা হতে ড. সেলিম হোসেনকে জেরা করা শুরু করে। পরবর্তীতে তারা শিক্ষককে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করে। পরে দুপুর ৩টায় মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেন।

শিক্ষকের মৃত্যুর দিন রাতে এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এ কমিটির সভাপতি ছিলেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম। এছাড়া দুজন সদস্য ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আতাউর রহমান ও ইইই বিভাগের অধ্যাপক কল্যাণ কুমার হালদার। তাদের মধ্যে কল্যাণ কুমার হালদার লিখিতভাবে এবং মো. আরিফুল ইসলাম মৌখিকভাবে তদন্ত করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে ৫ সদস্যের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

 

 

ইত্তেফাক/ ইআ