নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের ভেতর থেকে একটি ট্রাকসহ প্রায় ১০ মেট্রিক টন লোহা (রড ও পাইপ) বাইরে বের করার সময় জব্দ করা হয়েছে। পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাসহ ৫ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর রূপপুর প্রকল্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যের সহযোগিতায় ট্রাক ও লোহাসহ এদের আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ লোহাসহ ট্রাক জব্দ ও পাঁচজনকে আটকের ঘটনা নিশ্চিত করেন।
আটককৃতরা হলো, পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রূপপুর মোড়ের মৃত হাসেম আলীর ছেলে মিরাজ আলী (৩৪), লক্ষীকুন্ডা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে রুবেল ইসলাম রাজন (৩৭), ঠাকুরগাঁও জেলার আরাজী মাটিগাড়া গ্রামের মির্জা বেলাল হোসেনের ছেলে মাজহারুল ইসলাম সাদ্দাম (২৮), ঈশ্বরদীর বাঘইল স্কুলপাড়ার নুর মোস্তফার ছেলে কামরুল হাসান রাসেল (৩৭) ও নাটোরের বনপাড়ার বাহিমালি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে আবুল কালাম (৩৮)। রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের পর গভীর রাতে তাদের ঈশ্বরদী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আতিকুল ইসলাম জানান, রূপপুর প্রকল্পের ভেতর থেকে বাইরে বের করার সময় গেটে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একটি ট্রাকসহ প্রায় ১০ মেট্রিক টন লোহা আটক করে। এসময় ট্রাক চালকের কাছে প্রয়োজনীয় বৈধ কোন কাগজপত্র না পাওয়ায় নিরাপত্তা সদস্যরা ট্রাকচালক আবুল কালাম আজাদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জড়িত আরও চারজনের নাম প্রকাশ করেন। অন্যরা এসময় রূপপুর প্রকল্প এলাকায় ছিলেন। পরে আরও চারজনকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। পরে রাত দশটার দিকে নিরাপত্তা সদস্যরা ট্রাক ও লোহাসহ পাঁচ ব্যক্তিকে রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করেন। পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদেও কোন সন্তোষজনক জবাব ও লোহার বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় রাত ১২টার দিকে পাকশীর রূপপুর ফাঁড়ি থেকে আটকদেরকে ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ হাজতে নেওয়া হয়।
ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা শুনেছি অবৈধভাবে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই ট্রাকে করে লোহাগুলো গোপনে রূপপুর প্রকল্পের বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এরমধ্যে লোহার রড ও কিছু পাইপ রয়েছে। সব মিলিয়ে মালামাল সাড়ে নয় মেট্রিক টনের কিছুটা বেশি হবে।
তিনি আরও বলেন, রূপপুর প্রকল্পে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য এখানে সার্বক্ষণিক সেনাসদস্য, বিজিবি, পুলিশ, আনসার রয়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্পের ভেতর থেকে অবৈধভাবে লোহা নিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তারা ট্রাক বোঝাই লোহাসহ ও পাঁচজনকে আটক করে আমাদের হস্তান্তর করেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।
এদিকে প্রকল্পের আবর্জনা পরিষ্কারের দায়িত্বে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বাংলা পাওয়ার কোম্পানি’র লোকজন এই পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, প্রকল্পের ময়লা-আবর্জনা নিষ্কাশনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বাংলা পাওয়ার কোম্পানি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ময়লা-আবর্জনার ভেতরে এসব লোহা-লক্করসহ অন্যান্য সামগ্রী পাচারের সঙ্গে ওই কোম্পানির লোকজনই জড়িত বলে তিনি জানিয়েছেন।
‘বাংলা পাওয়ার কোম্পানি’র সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
