শনিবার, ২১ মে ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

খুনিদের আশ্রয়দাতার কাছ থেকে সবক শুনতে হয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:১০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ‘আশ্রয়-প্রশ্রয়’ দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশের গণতন্ত্র-মানবাধিকার নিয়ে সমালোচনা করার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘আমেরিকার মতো দেশ সবসময় ন্যায়বিচার-গণতন্ত্রের কথা বলে, ভোটাধিকারের কথা বলে, মানবাধিকারের কথা বলে। কিন্তু আমাদের যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছিল, আমরা যে ন্যায় বিচার পাইনি—তারপরে যখন বিচার হলো, সেই খুনিদের আশ্রয় দিয়ে বসে আছে। তাদের কাছ থেকে আমাদের আইনের শাসনের সবকও শুনতে হয়, গণতন্ত্রের কথাও শুনতে হয়, ন্যায়বিচারের কথাও শুনতে হয়, সেটিই আমার কাছে অবাক লাগে।’

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধু ও বিচার বিভাগ ও ‘বঙ্গবন্ধু এন্ড জুডিশিয়ারি’ শীর্ষক বাংলা ও ইংরেজিতে মুজিব স্মারক গ্রন্থ এবং ‘ন্যায়কণ্ঠ’ শীর্ষক মুজিববর্ষের স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের মূল অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে করেন।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রচেষ্টা চালানোর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সরকারে আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যতজন রাষ্ট্রপতি এসেছেন, প্রত্যেকের কাছে বারবার অনুরোধ করেছি যে একটা সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আপনারা কীভাবে আশ্রয় দেন, আপনাদের জুডিশিয়ারি কীভাবে আশ্রয় দেয়, কীভাবে আপনারা একটা খুনিকে আশ্রয় দেন? তাকে (রাশেদ) আজ পর্যন্ত ফেরত দিল না।’ আমেরিকায় খুনি রাশেদ এবং কানাডায় নূর আশ্রয় নিয়ে আছেন বলেও তিনি জানান।’

প্রধানমন্ত্রী সবার প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তার সরকার এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করবে। ন্যায়বিচার মানুষের প্রাপ্য। এটা যেন সব সময় পায়—সেটা আমরা চাই। কারণ আমরা ভুক্তভোগী। তাই আমরা জানি বিচার না পাওয়ার কষ্টটা কী।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যারা ১৫ই আগস্টে সব হারিয়েছিলাম, আমার মতো বাবা-মা হারিয়ে যেন কাউকে বিচারের জন্য চোখের পানি  ফেলতে না হয়। সেটাই আমরা চাই।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার রায় কার্যকর হওয়ায় বিচার বিভাগ, দল ও দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তবে এখন আরেকটা দায়িত্ব রয়ে গেছে। চক্রান্তটা খুঁজে বের করা। এটা একদিন বের হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইন মন্ত্রী আনিসুল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। আপিল বিভাগের বিচারপতি এবং স্মারক গ্রন্থ এবং স্মরণিকার সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান স্বাগত বক্তৃতা করেন। মুজিব স্মারক গ্রন্থ এবং স্মরণিকার ওপর অনুষ্ঠানে ভিডিও ডকুমেন্টারিও প্রচারিত হয়। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা ও বঙ্গমাতাসহ ’৭৫ এর ১৫ই আগস্টের সব শহিদ এবং বিজয়ের এই মাসে সব মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে সবাই দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কখনো বিচার কাজে হস্তক্ষেপ করিনি, এর আগে অনেক ঘটনা আছে আপনারা জানেন। দেখা গেছে ফলস সার্টিফিকেট এর ব্যবহার বা ছাত্রদলের কাঁধে হাত রেখে কাকে কি রায় দেওয়া হবে সেটা নিয়ে আলোচনা—এ রকম বহু ন্যক্কারজনক ঘটনাও বাংলাদেশে ঘটেছে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় জনসাধারণের জন্য বিচারের রায় বাংলায় লেখার ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ইংরেজিতে লেখা বিচারের রায় আসামিরা কী কতটুকু বোঝে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং ইংরেজিতে রায় লেখার সঙ্গে সঙ্গে এটার বাংলায় অনুবাদটা যাতে হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান। এজন্য আলাদাভাবে ট্রান্সলেটর নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ, বাঙালি জাতির মুক্তিসনদ ছয় দফা, বাঙালির স্বাধিকার, বাঙালির স্বাধীনতা—যেটাই বলি না কেন, এই শব্দগুলোর অপর নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ বিশ্বব্যাপী যেখানে মুক্তিসংগ্রাম, সেখানেই অনুপ্রেরণা বঙ্গবন্ধু।’ 

ইত্তেফাক/ইউবি 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বৈশ্বিক সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব

বিশেষ সংবাদ

ভোগ্যপণ্য ও ডলারের বাজার পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতুতে তুলে নদীতে ফেলে দেওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী

‘বার বার ষড়যন্ত্রের পরও গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে আওয়ামী লীগ’

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কক্সবাজারে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ করবেন না: প্রধানমন্ত্রী

৬ বছরের মাথায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১০ তলা অফিস

মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে দেশে ফিরেছিলাম: প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনাকে স্পেন সরকার প্রধানের শুভেচ্ছা