প্রার্থী হারলেন নির্বাচনে, চলাচলের পথ বন্ধ করলেন সমর্থক! 

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:৫০

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে এক মেম্বার প্রার্থী হেরে যাওয়ায়, তার সমর্থক জনচলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। পরাজিত প্রার্থীর নাম সঞ্জয় রায়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহমান বাদী হয়ে সঞ্জয় রায়ের সমর্থক আওলাদ হোসেনকে আসামি করে হাতীবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  এরশাদুল আলম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৬ ডিসেম্বর উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাইদার রহমান মোরগ প্রতীক নিয়ে মেম্বার নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সঞ্জয় রায় তালা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান। এদিকে বিজয়ী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় আব্দুর রহমানের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন আওলাদ।  

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) আব্দুর রহমান বাদী হয়ে আওলাদ হোসনসহ ৩ জনের নামে হাতীবান্ধা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে ২৭ ডিসেম্বর উপজেলার গোতামারী ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব আমঝোল এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার পূর্ব আমঝোল এলাকার আওলাদ হোসেন (৩৫), শরিফ উদ্দিন (৫৫) ও রফিকুল ইসলাম(২৭)। 

 বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া চলাচলের পথ

আবদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সাইদার রহমানের পক্ষে কাজ করেছি। আর সঞ্জয়ের পক্ষে করেছেন আওলাদ হোসেন। সঞ্জয় হেরে যাওয়ায় তারা রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এমনকি আমার বাবা এলাকার যে মসজিদে আজান দেন, সেই মসজিদের চাবি পর্যন্ত তারা নিয়ে নেন। আর বাবাকে আজান দিতে দেবেন না। আমার শিশু সন্তান সাইকেল নিয়ে মাদ্রাসায় যেতো। রাস্তার বন্ধের কারণে এখন মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা মনছুর বলেন, ‘আওলাদ হোসেনকে অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি। রাস্তা খুলে দেওয়ার জন্য বলেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আমি রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি। আপনাদের কী করার আছে, করেন।’

এই বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানতে চাইলে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিচ্ছি।’        

ইত্তেফাক/এনই