পর্দা নামলো ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০-এর

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:২০

পর্দা নামলো 'ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০'-এর। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপনী ঘোষণা করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বঙ্গভবন থেকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকতার হোসেন, ওআইসির প্রেসিডেন্ট তাহা আয়হান, তাতারস্তানের যুব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তিমুর সুলেমানাভ ও মালদ্বীপের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ মাহলুফ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলওয়াত করা হয়। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে একটি অডিও-ভিজুয়াল ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বাণী, ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০-এর বছরব্যাপী আয়োজনসমূহের সম্মিলিত ডকুমেন্টারি ও থিম সং উপস্থাপন করা হয়। 

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বংবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদদের স্মরণ করি। জাতির পিতার দেখানো পথ ধরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, বর্তমান সরকারের সাম্প্রতিক সব অর্জনেই তরুণদের অবদান ছিল। তারাই দেশের ভবিষ্যৎ। এটা প্রমাণিত যে, যখনই দেশ কোনো বিপদের সম্মুখীন হয়েছে, তরুণ-যুবারা তখনই এগিয়ে এসেছে। কেননা তারাই এদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল এমন একটি প্লাটফর্ম যারা বিশ্বের তরুণ শক্তিকে এক করতে পারে। তাই আমি তাদের এই আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, এমন একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের তরুণরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের কাঁধে ভর করেই আগামীর বাংলাদেশ আপন গতিতে চলবে। চলমান করোনা পরিস্থিতি সামলে উঠতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আর আজকের তরুণরাই পারে এই বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন,  যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজকে আমন্ত্রিত সবাইকে স্বাগতম জানাই। বিজয়ের এই মাসে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের। স্বাধীনতার পর থেকেই ইসলামের কল্যাণে জাতির পিতা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তারই দেখানো পথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিভিন্ন সময় একাধিক উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের সব ইসলামিক দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক ধরে রেখেছে। করোনায় পৃথিবী যখন থমকে ছিল, ঠিক সে সময় বিশ্বের ৩০টি দেশের প্রায় ৪০ লাখ তরুণ এই আয়োজনে অংশ নেয়। তাদের অংশগ্রহণেই বছরব্যাপী নানা প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকতার হোসেন বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদসহ উপস্থিত সবাইকেসহ আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এই আয়োজনের উদ্বোধনের পর থেকেই আমরা বছরব্যাপী বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। 

ওআইসির প্রেসিডেন্ট তাহা আয়হান বলেন, করোকালীন পরিস্থিতি থাকা সত্বেও ঢাকা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পুরো আয়োজনটি শেষ করেছে। এজন্য আমি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। আমি আজ বলতেই পারি, এতো চ্যালেঞ্জের পরও তারা আয়োজনের লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রণালয়েত সকলকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের যুব শক্তিকে কাজে লাগিয়েই আমরা লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছি। 

করোনার বাধা পেরিয়ে এমন সফল আয়োজনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান তাতারস্তানের যুব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তিমুর সুলেমানাভ।

অনুষ্ঠানে মোট ১১ ক্যাটাগরিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি