বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নতুন বছরে তরুণদের প্রত্যাশা

নতুন বছরের প্রথম দিন আজ। গেল বছরের হতাশা ও বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে অর্জন আর প্রাচুর্য্যে, সৃষ্টি আর কল্যাণে ভরে উঠবে হৃদয়—নতুন বছরকে নিয়ে এমনটাই প্রত্যাশা সবার। ২০২০ সালের পুরোটাই কেটেছে করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট স্থবিরতায়। ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে জীবন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তাই ২০২২ সালকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। নতুন বছর নিয়ে কয়েকজন তরুণ তাদের প্রত্যাশা ও অভিমত তুলে ধরেছেন ইত্তেফাক অনলাইনের কাছে। এটি গ্রন্থনা করেছেন শাকিরুল আলম শাকিল, মোঃ আরিফ হাসানমোঃ আবু রাহাত

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:০০

বিগত দুটি বছরে কতোটা হারিয়েছি আর কতোটা নতুন করে পেয়েছি তা হিসেব করলে, হারানোর খাতাটাই হয়তো বেশি ভারী হবে। অপ্রাপ্তির পাল্লাই ভারী। নতুন বছরে এসে যদি তা পুষিয়ে নেওয়া যায়, তবে মন্দ হয় না।
করোনা মহামারীর প্রভাবে দেশের হাজারো ছাত্র-ছাত্রী জীবিকার তাগিদে পড়াশোনা ছেড়ে মাঠে, ঘাটে, কলকারখানা, রাজপথে নেমে পড়েছে। এই বছরে যদি তাদেরকে পুনরায় পড়াশোনায় বহাল করা যায়, তবে এই বছরটা অর্থবহ হবে। মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক শ্রেণির লোকজন শোচনীয় পরিস্থিতি পার করেছে। ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েও অনেকে পারেনি। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি আর দেখতে না হয়, সেজন্য উন্নয়ন ভাবনায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। ক্ষুদ্র করোনাভাইরাস আমাদের সীমাবদ্ধতা, অসচেতনতা, নির্লিপ্ততাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এখন এই প্রকাশিত সত্য গুলোকে ধামাচাপা দিয়ে না রেখে, এক এক করে মীমাংসা করতে হবে। নতুন বছরে সেটাই লক্ষ্য হোক।
পরিশেষে বলব, দরজা খুলে যেন দেখতে পাই সময়ের হাতে করে নিয়ে আসা এক রাশ সম্ভাবনা-পুষ্পের তোড়া আমায় সাগ্রহে ডাকছে, এমনই প্রত্যাশা রইলো নতুন বছরের কাছে।
মো. জাকারিয়া, শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

২০২২ এর কাছে প্রথম প্রত্যাশা, দেশ তথা পৃথিবী হোক সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত। মানুষে-মানুষে বিভেদ কখনোই কাম্য নয়। সকলে নির্বিশেষে এবং সর্ব-ঊর্ধ্বে পূজিত হোক 'মানুষ' এবং 'মনুষত্ব'। লিঙ্গবৈষম্য এবং বর্ণবৈষম্য-সকল প্রকার অগ্রগতি পথের চূড়ান্ত দুই অন্তরায়। ২২-এ তাই ব্যধিদ্বয়ের নিরসন কামনা করি।
অভিজ্ঞতা বলে, করোনা মহামারি দৈবাৎ হলেও সংক্রমণের জন্যে দায়ী 'আমরা'। এবার আমরা সচেতন হই। আমাদের বাঁচাতে 'আমরা' সচেতন প্রতিরোধ গড়ে তুমি এবং পৃথিবী-কে নীরোগ করে তুলি।
হিমাদ্রী শেখর বাঁধন, শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ,  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

 

মাত্রই মহামারীর তীব্র প্রকোপ থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠা এই আমরা সবেই ফিরেছি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে। চাইব বাইশে আর না আসুক লকডাউন, শাটডাউন কিংবা চারদেয়ালের সেই বন্দি জীবন, না আসুক নতুন ভ‍্যারিয়েন্টের আর কোনো দুঃস্বপ্ন।
আমাদের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অগ্রগতির দিকে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। তবে সেই আলো প্রজ্বলিত হওয়ার পথে এখনো রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পেরোনোর পর ২০২২ এ এসে প্রত্যাশা, দেশের সার্বিক উন্নতির মাধ্যমে আমাদের আগামী আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। 
সড়ক দুর্ঘটনা ২০২১ এর অন্যতম আলোচিত সমস্যা ছিল যার ভয়াবহতায় অকালে প্রাণ ঝরে গেছে বহু মানুষের। স্বজন হারানো পরিবারগুলো সম্মুখীন হয়েছে অপ্রত্যাশিত ভবিষ্যতের। অন্তত ২০২২ এ এসে যেন কমে এই মৃত্যুর মিছিল।
আমরা যেন বৈষম্য আর ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সকলে একসাথে মিলে থাকতে পারি। নিরাপদ-সুস্থ-সুন্দর পৃথিবী হিসেবে দেখতে পারি এবং আমাদের গর্ব বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে বারবার গৌরবান্বিত করতে পারি—এটাই চাওয়া।
মার্জান হক, শিক্ষার্থী, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা।

 

স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুন বছর আসে। আমরা আলোড়িত হই, উদ্দীপিত হই। আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি আমরা অঙ্গীকার করি, নতুন বছরে নতুনভাবে চলতে। নতুনভাবে জীবনযাপন করতে, নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে। ব্যক্তিচরিত্র বদলেরও অঙ্গীকার করি আমরা। বিগত বছরের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে এগোনোর কথাই ভাবছি এবারও।
করোনার প্রকোপ থেকে পৃথিবী এখনো বাঁচাতে পারেনি।তাই ২০২২ এর প্রথম প্রত্যাশা করোনামুক্ত একটি সুস্থ সুন্দর পৃথিবী। সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশের বাস্তবায়ন দেখতে চাই ।
প্রত্যাশা করা, স্বপ্ন দেখা আর তা বাস্তবে রূপ দেয়া সহজ কথা নয়। কঠিন সাধনার মাধ্যমে সত্যের মুখোমুখি হওয়া এবং তাকে সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য। পরিকল্পনামাফিক  পরিশ্রম ও গঠনমূলক চিন্তা ছাড়া যেমন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়, একইভাবে সম্ভব নয় রাষ্ট্রের উন্নয়নও। রাষ্ট্রের চরিত্র হতে হয় গণমুখী তথা জনকল্যাণমূলক। বাংলাদেশ সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাক। 
অপূর্ব জয় অর্পণ, শিক্ষার্থী, সিএসই বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।

 

২০২১ এ আমরা যারা শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের রয়েছি তারা দেশের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দু’রকম ঘটনারই সাক্ষী হয়েছি। একইসাথে তরুণদের বিভিন্ন ইতিবাচক কার্যক্রম ও সাফল্য নিয়ে দেশবাসী যেমন আনন্দে উল্লসিত হয়েছে, হয়েছে আশান্বিত, ঠিক তেমনি বেশ কিছু কর্মকাণ্ড সমাজের কাছে প্রশ্নবিদ্ধও হয়েছে। হতাশায় ডুবিয়েছে তরুণদের নিয়ে স্বপ্ন দেখা মানুষদেরকে।
আমি চাই ২০২২ এ সকল পর্যায়ে জবাবদিহিতার সুষ্ঠ চর্চা যেনো শুরু হয়। এতে করে যেমন অপরাধ কমে আসবে, ঠিক তেমনি দুর্নীতিও হ্রাস পাবে। এছাড়াও তরুণদের মধ্য থেকে আরও বেশি পরিসরে যেনো উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যেনো এই উদ্যোগগুলোকে সফল উদ্যোগে পরিণত করার জন্য সাহায্য করেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমি একটি গঠনমূলক পরিবর্তন চাই। যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রকৃতি-পরিবেশ, সমাজ এবং মানসিক দক্ষতার বিভিন্ন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। তাছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সকলকে সোচ্চার হতে হবে। আমি আরও চাই, সড়ক যেন সকলের জন্য নিরাপদ হয় এবং নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ যেন বন্ধ হয়।
২০২২ সকলের জন্য সুন্দর, সাফল্যমণ্ডিত এবং সুবাসে ভরা হাস্যোজ্জল একটা বছর হোক এটাই আমার প্রত্যাশা।
আলী মর্তুজা, শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্

 

২০২২ সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে দেখতে চাই। যে উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখতেন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সব মানুষের বাংলাদেশ চাই। চাই মুক্ত পাখির শারদ আকাশের বাংলাদেশ। নবান্নের প্রকৃত প্রাকৃতিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা ভুল নয় নিশ্চয়। কারণ আমাদের আছে খেটে খাওয়ার প্রতি আন্তরিক ঝোঁক। শুধু যাদের এই ঝোঁক নেই, তাদের মাঝে যেন শুভবুদ্ধি ও বিবেকবোধ জাগ্রত হয়। 
বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে, কৃষি ক্ষেত্রে সহ অনেক ক্ষেত্রেই সাফল্য অর্জন করছে। এভাবেই এগিয়ে চলুক বাংলাদেশ। কখনো কখনো দুর্নীতি আমাদের এই উন্নয়নের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। নতুন বছরে খুব করে চাইবো প্রতিটি সেক্টরের দুর্নীতি দূর হোক। সকলে মিলে দেশকে ভালোবেসেই যেন এগিয়ে যাই বহুদূরে। 
সানজিদা আক্তার শ্রেয়সী, শিক্ষার্থী, ঝিকরগাছা মহিলা কলেজ, যশোর।

ইত্তেফাক/এসটিএম