বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঘোষণা সত্ত্বেও হয়নি কার্গো ভিলেজ

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বাড়েনি পণ্য পরিবহন সুবিধা

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:৪৮

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানির জন্য বাড়েনি বিমানে পণ্য পরিবহন সুবিধা। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে নানা উপলক্ষ্যে এই বিমানবন্দরে একটি বিশ্বমানের কার্গো ভিলেজ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা নির্মিত হয়নি। তার ওপর রানওয়ের কম দৈর্ঘ্যসহ নানা জটিলতায় এই বিমানবন্দরে বড় কার্গো বিমান নামার সুযোগ তৈরি না হওয়ায় এখানে বাণিজ্যিকভাবে এয়ারফ্রেইট কার্যক্রম বিকশিত হতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছে চট্টগ্রামের বিভন্ন ব্যবসায়ী সূত্র।

ব্যবসায়ী সূত্রগুলো জানায়, চট্টগ্রামের বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ইপিজেডসহ সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জরুরি রপ্তানি প্রয়োজনে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কোনো সুবিধা তারা পাচ্ছেন না। ফলে জরুরিভাবে পণ্য রপ্তানি করতে হলে তাদের ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখাপেক্ষী হতে হচ্ছে। রপ্তানিযোগ্য পণ্য সড়ক পথে পাঠাতে হচ্ছে ঢাকায়। এতে একদিকে যেমন বিস্তর সময় ব্যয় হচ্ছে অন্যদিকে পরিবহন খরচও বেড়ে যাচ্ছে অনেক। কোনো কিছু জরুরিভাবে আমদানির ক্ষেত্রেও একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে তারা জানান।

শিপার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম ইত্তেফাককে বলেন, প্রয়োজন রয়েছে বলেই চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক এয়ার ফ্রেইট সুবিধা বাড়ানো দরকার। এতে ব্যবসায়ীরা নানা সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক এয়ারফ্রেইট বড় আকারে শুরু করা এবং এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের কার্গো ভিলেজ প্রতিষ্ঠা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন হয়ে যাওয়া উচিত।

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম শাহ আমানতে একটি বিশ্বমানের কার্গো ভিলেজ এখনো হয়নি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল কার্গো ভিলেজ স্হাপনসহ চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি এয়ারফ্রেইট সুবিধা পাবেন জরুরি পণ্য রপ্তানিকারকরা। কিন্তু তা এখনো হয়নি। ফলে পণ্য বিমানে তুলে দিতে সড়ক পথে ট্রান্সপোর্ট খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। শুনেছি এখানে বড় কার্গো বিমান নামতে পারে না। এই সমস্যাটির সমাধানসহ অন্য বাধাগুলো দূর করে এখান থেকে পণ্য পরিবহন শুরু করা গেলে দেশ এবং ব্যবসায়ী মহল উভয়েই লাভবান হবেন।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত সিএন্ডএফ এজেন্ট আবু বক্কর বলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে বর্তমানে সীমিতভাবে শাকসবজি, কাঁচা পণ্য ও ফলমূল মধ্যপ্রাচ্য হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির প্রক্রিয়াটি এখনো পর্যন্ত চালু আছে। সেই সঙ্গে আছে বিদেশ থেকে বিভিন্ন যাত্রীবাহী বিমানে আসা যাত্রীদের স্বল্প পরিমাণ ব্যক্তিগত পণ্যের ব্যাগেজ রুল প্রক্রিয়া। চট্টগ্রাম বন্দরে বিমানে পণ্য পরিবহনের জন্য কিছু শেড আছে। কিন্তু প্রয়োজন একটি আন্তর্জাতিক মানের কার্গো ভিলেজ। চালু করা প্রয়োজন বাণিজ্যিকভাবে এয়ারফ্রেইট। কিন্তু সব কিছু এখনো পর্যন্ত অনিশ্চিত। এই বিমানবন্দর দিয়ে জরুরি প্রয়োজনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু করা গেলে এর সুবিধা পাবেন প্রবাসী, শিল্পমালিক ও রপ্তানিকারকগণ। শুনেছি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য বাড়ানো হবে, সেই সঙ্গে করা হবে উঁচু। আমরা মালিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখানে একটি কার্গো ভিলেজ নির্মাণ করে বিমানে বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানি কার্গো পরিবহন সুবিধা শিগ্গিরই বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন কতৃ‌র্পক্ষের কাছে একটি চিঠি দেব।

তিনি বলেন, ঢাকা শাহজালালে গত অক্টোবরে মাসব্যাপী কার্গোজট পরিস্হিতির সৃষ্টি হলে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে জরুরি ব্যবস্হায় বিজিএমইএ’র কয়েক হাজার টন রপ্তানি পণ্য পাঠানোর ব্যবস্হা করা হয়েছিল। ফলে কতৃ‌র্পক্ষ উদ্যোগ নিলে চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপে জরুরি রপ্তানি পণ্য পাঠানো সম্ভব বলে মনে করি। তবে এখান থেকে বিশেষত, ইউরোপে রপ্তানি পণ্য পাঠাতে একটি বড় ও আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন থাকা দরকার বলে মনে করি।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্হাপক উইং কমান্ডার ফরহাদ হোসেন খান ইত্তেফাককে বলেন, ২০২০ সালের মার্চ থেকে কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে সারা পৃথিবীতে বিমান চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হলে এই বিমানবন্দরও সময় সময় বিভিন্ন ব্যবস্হা গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, এখানে বর্তমানে প্যাসেঞ্জার ফ্লাইটে যাত্রীরা ব্যাগেজ রুলে পণ্যসামগ্রী নিয়ে আসছেন। পণ্য রাখারও নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। এই বিমানবন্দরে বর্তমানে কোনো ধরনের ডেডিকেটেড কার্গো ফ্লাইট নেই।