ঝালকাঠিতে লঞ্চে আগুনের ঘটনায় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন তামিম (৮) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) তার মৃত্যু হয়। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ জনে দাঁড়ালো।
বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. এস এম আইউব হোসেন জানান, শিশুটির শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তার শ্বাসনালী পুড়ে গিয়েছিল। প্রথম থেকে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। সেখানেই ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়েছে। এখনো আরও একজনকে আইসিইতে রাখা হয়েছে। আর সব মিলিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১৩ জন।
জানা যায়, তামিম তার মা-বাবার সঙ্গে বরগুনা সদরে থাকতো। ঘটনার ১০-১২ দিন আগে মা জিয়াসমিন (২৮) ও ছোট বোন মাহিনুরের (৬) সঙ্গে ঢাকার কেরানীগঞ্জের সুবাড্ডা এলাকায় নানার বাড়ি এসেছিল। ওইদিন রাতে একসঙ্গে আবার বরগুনায় ফেরার সময় লঞ্চে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
তামিমের মা এবং ছোট বোনও লঞ্চে দগ্ধ হয়েছিল। ঘটনার পর প্রথমে দগ্ধ অবস্থায় তাদের বরিশাল মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে তাদের তিনজনকে ঢাকায় নিয়ে আসার পথে মাওয়া ঘাটে তামিমের বোন মাহিনুরের মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর দিনগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটিতে পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী এলাকার সুগন্ধা নদীতে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। এতে এখন পর্যন্ত ৪২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক।
