প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতো এই দম্পতি, ছিল টর্চার সেলও!

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২২, ২০:২২

রংপুরে নিরীহ মানুষকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে ভদ্র লেবাসধারী স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। সোমবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানায় র‍্যাব।

র‍্যাবের হাতে গ্রেফতাররা হলেন, মো. শাহারুখ করিম অনিক (৩৪) ও তার স্ত্রী মোছা. আসমানী আক্তার (২৪)। তারা নিরীহ মানুষকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অশ্লীল ছবি তুলে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতো। এ সময় র‌্যাব প্রতারক দম্পতির টর্চার সেল আবিষ্কার করেছে। সেখান থেকে দুটি চাপাতি, ইলেকট্রিক শকের তার, মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি, হাতুড়ি, ছুরি, স্ট্যাম্প, ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-১৩ রংপুর সহকারী পরিচালক মাহমুদ বশির আহমেদ জানান, র‍্যাবের কাছে তথ্য ছিল, বেশ কিছুদিন ধরে মহানগরীর বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে কৌশলে নিজেদের আস্তানায় নিয়ে যেত মো. শাহারুখ করিম অনিক (৩৪) ও তার স্ত্রী মোছা. আসমানী আক্তার (২৪) সহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জন। এরপর সেখানে অশ্লীল ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতো। এছাড়াও হত্যার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ, চুরি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযোগটি আমলে নিয়ে এর সত্যতা অনুসন্ধানে ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিললে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে রংপুর মহানগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির নিজ বাসা থেকে মো. শাহারুখ করিম অনিক (৩৪) ও তার স্ত্রী মোছা. আসমানী আক্তার (২৪)-কে  গ্রেফতার করে র‍্যাব। অভিযান চলাকালীন সময়ে ওই বাসার ৬ষ্ঠ তলায় একটি টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানেই টার্গেট করা ব্যক্তিদের জিম্মি করে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতো এই দম্পতি। এছাড়া সেখান থেকে দুটি চাপাতি, ইলেকট্রিক শকের তার, মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি, হাতুড়ি, ছুরি, স্ট্যাম্প, ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দম্পতি বিভিন্ন ব্যক্তিদের জিম্মি করে টাকা আদায় এবং নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। সেই সঙ্গে তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগিদের আইনের আওতায় আনার জন্য র‌্যাবের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আরপিএমপি কোতয়ালী থানায় মামলাটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি