দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বারখ্যাত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘন কুয়াশার কারণে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১টা থেকে বুধবার (৫ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে নদীর উভয় পাড়ে পারাপারের অপেক্ষায় আটকে পড়ে শত শত যানবাহন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ১টা থেকে ঘন কুয়াশার কারণে সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত ৯ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এরপর স্বাভাবিক হয় ফেরি চলাচল। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই নদী এলাকায় কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাত সোয়া ১ টার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব বৃদ্ধি পেলে নৌরুটের বিকন বাতি, বয়া ও অন্যান্য দিক নির্দেশনামূলক চিহ্নগুলো অস্পষ্ট হয়ে আসে। এ সময় ফেরির চালকদের দৃষ্টিসীমা শূন্যতে নেমে আসায় যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। বুধবার সকাল ১০টার দিকে কুয়াশা কিছুটা কমে এলে ধীরে ধীরে ফেরি চলাচল শুরু করে। বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে নদী পথ পরিষ্কার হলে স্বাভাবিক হয় ফেরি চলাচল।
গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে ফেরি চলাচল ৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় নদীর শীতল বাতাসের মধ্যে আটকে থাকায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে শিশু ও মহিলারা। দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক, কাঁচামাল বোঝাই যানবাহন ও নৈশকোচসহ ছোটবড় সব মিলিয়ে পারের অপেক্ষায় রয়েছে সহস্রাধিক বিভিন্ন যানবাহন। কনকনে শীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়া যাত্রী, পরিবহন চালক ও সহকারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে নারী এবং শিশুদের শীতের মধ্যে মহাসড়কে গাড়ির মধ্যে সারারাত আটকে থেকে বাথরুম ও খাবারের সমস্যা পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ রেলগেট এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তায় যানবাহনের দীর্ঘ সিরিয়ালের সৃষ্টি হয়। এতে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত যানগুলো মহাসড়কে আটকে পড়ে। ঘাট এলাকার মহাসড়কের চাপ কমাতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট হতে ১২ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক সড়কের গোয়ালন্দ মোড়ে আরও অন্তত কয়েকশ যানবাহন পুলিশ সিরিয়ালে আটকে রেখেছে। অন্যদিকে প্রাইভেটকার মাইক্রোবাসসহ ছোট গাড়িগুলোকে গোয়ালন্দ পদ্মার মোড় দিয়ে হামিদ মৃধার হাট হয়ে ৬ কিলোমিটার ঘুরে ফেরি ঘাটে পৌঁছচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জামাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত সোয়া ১টার দিকে নদীতে হঠাৎ কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব কমে গেলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়। দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় ঘাটে ফেরি পারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের সারির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই নৌরুটে বর্তমান ছোট বড় ১৫টি ফেরি চলাচল করছে।
