নিউজিল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেওয়ার নায়ক এবাদত হোসেন চৌধুরী। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এর আগে সব সংস্করণ মিলিয়ে টানা ৩২ হারের ধারাবাহিকতারও অবসান ঘটে বাংলাদেশের। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে তাক লাগানো জয় পায় বাংলাদেশ। দুই ইনিংসে ৭ উইকেট (১ ও ৬) নিয়ে দলকে জেতাতে বড় ভূমিকা রাখা এবাদত ম্যাচ-সেরার পুরস্কারও জিতেছেন। তার এমন অর্জনে এবং বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে পরিবারের পাশাপাশি আনন্দে ভাসছে তার নিজের গ্রাম। এবাদতের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির কাঠালতলী গ্রামে। বুধবার রাতে কাঠালতলী বাজারে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও কেক কেটে আনন্দ উদ্যাপন করেছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। বুধবার বিকেলে সরেজমিন এবাদত হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল মহা আনন্দোত্সব। ভীষণ খুশি পরিবারের সবাই।
এবাদতের স্বপ্ন ছিল একদিন জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেটে খেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন। সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। তিনি দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। আলাপকালে এবাদতের বাবা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী ও মা সামিয়া বেগম চৌধুরী বলেন, ‘লেখাপড়ার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই খেলার প্রতি তার আলাদা টান ছিল। সারা দিন ক্রিকেট খেলত। স্বপ্ন ছিল একদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলবে। আজ আমার ছেলে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশকে জিতিয়ে সে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। ওর এমন পারফরমেন্সে আমরাও খুশি। এলাকার মানুষও খুশি।’
তারা আরো বলেন, ‘আমরা তার সব খেলা দেখেছি। নামাজ পড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য দোয়া করেছি। সকালে এবাদতের সঙ্গে আমাদের মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। সে খুব খুশি।’ এবাদতের চাচাতো ভাই দেলওয়ার হোসেন চৌধুরী ইমন বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে গোটা বাংলাদেশের মতো আমরাও গর্বিত, আনন্দিত। এবাদত ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগী। আমাদের বিশ্বাস ছিল সে একদিন দেশের মুখ আলোকিত করবে। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে।’ কাঠালতলী ক্রিকেট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ ও সোনার বাংলা ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘এবাদতের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আজ বাংলাদেশ অবিস্মরণীয় জয় পেয়েছে। সে আমাদের দেশের, এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে। তাকে নিয়ে আমরা গর্বিত, আনন্দিত।’ এবাদতের সহপাঠী ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার আমজাদ হোসেন পাপলু বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সে যে চমক দেখিয়েছে তাতে আমরা খুশি। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ এমন একটা টেস্ট ম্যাচে জয় পেয়েছে।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এবাদত হোসেন চৌধুরীর বাবা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বর্ডার গার্ডে (বিজিবি) চাকরি করতেন। আর মা সামিয়া বেগম চৌধুরী পেশায় গৃহিণী। ছয় ভাইবোনের মধ্যে এবাদত দ্বিতীয়। স্হানীয় বিভিন্ন ক্রিকেট ক্লাবে খেলেছেন এবাদত। ভালো বোলিং করতেন বলে এলাকার বাইরেও তার নামডাক ছড়িয়ে পড়ে। এসএসসি পাশ করে ২০০৮ সালে সৈনিক পদে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগ দেন এবাদত। চাকরির পাশাপাশি বিমান বাহিনীর দলে নিয়মিত ভলিবল খেলতে শুরু করেন। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি তার টান মোটেও কমেনি। ২০১৬ সালে রবি পেসার হান্টের শেষ রাউন্ডে ১৩৯.০৯ কিলোমিটার গতিতে বল করে আলোচনায় আসেন এবাদত।
