বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গুরুত্বপূর্ণ আমল মোনাজাত

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:২৭

মোনাজাত এটি আরবি শব্দ। যার অর্থ হলো চাওয়া বা প্রার্থনা করা। মোনাজাত একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। আল্লাহ তায়ালা সাহায্য প্রার্থনাকারীকে বা মোনাজাতকারীকে অধিক ভালোবাসেন। দুনিয়ার কোনো মানুষের কাছে একবার বা দুবার কিছু প্রার্থনা করলে সে বিরক্ত বোধ করে বা রেগে যায়। কিন্তু মহান আল্লাহ এমন এক মালিক, যার কাছে একবার নয় দুবার নয় হাজার বার প্রার্থনা করলেও তিনি নারাজ হন না। তার কাছে যত বেশি চাওয়া যায় তিনি তত বেশি খুশি হন। দুনিয়ার সমস্ত বাদশাহ অপরাধীকে খুঁজে শাস্তি দেওয়ার জন্য। কিন্তু একমাত্র আল্লাহ তায়ালা এমন বাদশাহ যিনি অপরাধীদেরকে তালাশ করেন শাস্তি দেওয়ার জন্য নয় বরং তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য।

মোনাজাত আল্লাহর কাছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। যার কারণেই তিনি অভিশপ্ত শয়তানকে লানতের তক্তা গলায় ঝুলিয়ে দেওয়ার সময়ও তার কয়েকটি প্রার্থনা তিনি কবুল করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা মোনাজাতের ব্যাপারে এত দয়ালু যে, তিনি তার শত্রু আবু জাহেল, নমরুদ এমনকি ফেরাউনের মোনাজাতও তিনি কবুল করতেন। কোনো হিন্দু, খ্রিস্টান, কাফের আল্লাহর কাছে কোনো সাহাঘ্য প্রার্থনা করলেও তিনি তাকে ফিরিয়ে দেন না। আল্লাহ তায়ালা সকলের দোয়াকেই কবুল করে নেন। তাই তো রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদেরকে বলতেন, তোমরা বেশি বেশি আল্লাহর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো এবং সব বিপদ-আপদে একমাত্র তাকেই ডাকো, কেননা যাবতীয় সমস্যার সমাধানকারী একমাত্র তিনিই। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা প্রতিদিন শেষ রাতে প্রথম আকাশে এসে বান্দাদেরকে এ বলে ডাকতে থাকেন যে, কার কী প্রয়োজন আমার কাছে চাও। আমি তোমাদের সব প্রয়োজন পূর্ণ করে দিব। কে কী অপরাধ করেছ? আমার কাছে ক্ষমা চাও; আমি তাকে ক্ষমা করে দিব (আবু দাউদ)। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার রহমতের সাগর বিশাল বড়। কোনো অপরাধী যদি অপরাধ করে আমার কাছে ক্ষমা চায় তাহলে আমি ক্ষমা না করে থাকতে পারি না।’

হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা ফরজ নামাজের পর বেশি বেশি দোয়া করো, কেননা আল্লাহ তায়ালা তখন তোমাদের দোয়াগুলোকে কবুল করে নিবেন (জামিয়ে তিরমিজি)। অন্য এক হাদিসে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দোয়া হলো সকল ইবাদতের মগজ (বোখারি শরিফ)। রসুলের জামানায় কোনো সাহাবি বিপদে পড়ে রসুলের কাছে এলে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দোয়া করতে এবং ধৈর্য ধারণ করতে বলতেন। এক হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মানুষ গুনাহ করতে ভালোবাসে আর আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। কেননা তিনি গাফ্ফার অর্থাৎ ক্ষমাশীল (মুসলিম শরিফ)। অন্য জায়গায় রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল এবং ক্ষমাকারীকে পছন্দ করেন। অতঃপর হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা যখন নামাজ হতে অবসর হও, তখন দোয়ায় মশগুল হও (তাফসিরে ইবনে আব্বাস ৫১৪)। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কেউ যদি সাগর পরিমাণ গুনাহ করে ফেলে অতঃপর আল্লাহর দরবারে এসে দুটি হাত তুলে ক্ষমা চায় আল্লাহ তায়ালা সঙ্গে সঙ্গে তার সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।

লেখক: আলেম ও ইসলামি গবেষক

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা আজ

শাওয়াল মাসের আমলসমূহ

বেসরকারিভাবে হজ পালনে খরচ পড়বে যত

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের খরচ বাড়লো লাখ টাকা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক সন্ধ্যায় 

ঈদ কবে, জানা যাবে রবিবার

আজ রমজানের শেষ জুমা

সদাকাতুল ফিতর পবিত্র রমজান মাসের অন্যতম ইবাদত