চোরের ‘গন্ধ লাগে’! তাই প্যানে হাত ঢুকিয়ে চুরির মাল উদ্ধার করলো পুলিশ

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:১২

ঘরে তন্নতন্ন করে খুঁজে চুরির সামগ্রী না পাওয়ায় চোরকে কড়া ধমক দিয়ে পুলিশের এক সদস্য জিজ্ঞেশ করলেন চুরির সামগ্রী কোথায়?  আর তাতেই শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের প্যানের দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দেয় চোর!

পুলিশ সদস্য জিজ্ঞেস করলেন ওখানে কী? চোরের উত্তর, ‘‘ওখানেই আছে।’’ পুলিশ সদস্য এবার বলেন, ‘‘বের করো!’’ এতক্ষণ শান্ত থাকা চোরের এবার হু হু করে কান্না শুরু। পুলিশসদস্যরা যতই তাকে চাপ দিতে থাকেন, সে ততই উত্তেজিত ভাবে বলে চলে, ‘‘আমি সব বলে দিয়েছি স্যার! খালি ওখানে হাত ঢোকাতে বলবেন না। আমার গন্ধ লাগে। আমি পারব না!’’ শেষে নিরুপায় হয়ে পুলিশকেই ওই প্যানের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে বার করতে হয় চুরির জিনিস। সেখানে ছিল প্লাস্টিকে মোড়ানো সোনার গয়না ও নগদ এক লক্ষ টাকা! 

জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি কোলকাতার হরিদেবপুর থানায় চুরির অভিযোগ দায়ের করেন মঞ্জু মাইতি নামের এক নারী। তিনি জানান, গত ২৬ থেকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে রামচন্দ্রপুরে তাঁদের ফ্ল্যাটে কেউ ছিলেন না। ফিরে এসে তাঁরা দেখেন, আলমারি ভেঙে টাকা, সোনার গয়না সব লুট করে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে যার আনুমানিক মূল্য পাঁচ লক্ষ টাকার মতো। মামলা দায়েরের পর পরই দ্রুত তদন্তে নামে হরিদেবপুর থানার পুলিশ। চোর সন্দেহে শঙ্কর রজবর ওরফে হাজু নামে ৪০ বছরের এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে পুলিশ। গত রবিবার হরিদেবপুরের কবরডাঙা মোড়ের কাছ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এক পুলিশসদস্য বলেন, ‘‘হাজু আগেও বহু বার গ্রেফতার হয়েছে। বাড়িতে ওর বৃদ্ধা মা রয়েছেন। যে কোনও বাড়ির পাইপ বেয়ে উঠে পড়া ওর বাঁ হাতের কাজ। বেশির ভাগ সময়েই নেশা করে থাকে। যে এলাকায়, যে ভাবে চুরি হয়েছে, তাতে প্রথম থেকেই আমাদের ওর উপরে সন্দেহ ছিল। গ্রেফতার হওয়ার পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে ও চুরির কথা স্বীকার করে নেয়। কিন্তু চুরির সামগ্রী উদ্ধার করতে গিয়েই হিমশিম খেতে হয়েছে আমাদের।’’

ওই পুলিশসদস্য জানান, হাজুর দু’টি ঠিকানায় পরপর তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু ঘরে কিছু পাওয়া যাচ্ছে না দেখে ধমক দেওয়া হয়েছিল হাজুকে। তাতেই সে চুরির সামগ্রী কোথায় রয়েছে তা দেখিয়ে দেয়। সে তার ঘরের শৌচাগারের প্যানের ভিতর সেগুলো লুকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু হাজু কিছুতেই সেখানে হাত ঢোকাবে না। শেষে নাকে-মুখে রুমাল বেঁধে আমিই ওই প্যানের মধ্যে হাত ঢোকাই। তাতেই হাতে লাগে একের পর এক প্লাস্টিকের প্যাকেট। সেগুলির মধ্যে সোনার গয়না আর টাকা ভরে গার্ডার দিয়ে পেঁচিয়ে ঢুকিয়ে দিয়েছিল হাজু। বার করার পরে গয়নাগুলিকে সাফ করা হয়েছে। কিন্তু টাকাগুলি ভিজে যাওয়ায় শুকোতে হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫০০ টাকার নোটে এক লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে।’’

বছরের শুরুতেই হরিদেবপুর থানার এই উদ্ধারকাজ প্রশংসা পেয়েছে পুলিশ সদস্যরা। এই কাজের জন্য ঘটনার দিন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের পুরস্কৃত করার ভাবনাচিন্তাও হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার।

 

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন