দেশের তরুণ শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে ভূপালী রাগে খেয়াল পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দু’দিনের শুদ্ধ সঙ্গীত উৎসব। ছায়ানটের আয়োজনে শুদ্ধ সঙ্গীতের শিল্পী ও ওস্তাদরা অংশ নেয় এ উৎসবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছায়ানটের প্রধান মিলনায়তনে শুদ্ধ সঙ্গীতের এই আসরে উদ্বোধনী পর্বে ভিডিও বার্তায় বক্তব্য উপস্থাপন করেন ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুন। এবারের উৎসব শিক্ষাগুরু মদন গোপাল দাস ও সতীন্দ্রনাথ হালদারকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
শুদ্ধ সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ তরুণদের মাঝে কমে এসেছিল। ছায়ানট সেই ধারাকে বেগবান করতে সবসময় শুদ্ধসঙ্গীতের প্রশিক্ষণ চর্চা অব্যাহত রেখেছে। গত প্রায় দেড় দশক বছর ধরে তারা সারাদেশের শিল্পীদের নিয়ে আয়োজন করছে এ উৎসব। দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের সূচনা হয় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী পর্ব।
ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুন ছায়ানটের দুই শিক্ষাগুরু গোপাল দাস ও সতীন্দ্রনাথ হালদা কে স্মরণ করে বলেন, তারা দীর্ঘ সময় ছায়ানটের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তারা শিক্ষক হিসেবে যেমন ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। তেমনি তার ব্যবহার ছিল অত্যন্ত মার্জিত ও রুচিশীল।
উৎসবের প্রথম দিন অধিবেশন চলে ছয় ঘণ্টা। বিকাল সাড়ে চারটা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। ছায়ানটের শিক্ষার্থীদের খেয়াল পরিবেশনার পর শ্রী রাগে ধ্রুপদ পরিবেশন করেন এসময়ের প্রতিভাবান তরুণ শিল্পী অভিজিৎ কুণ্ডু।
এরপরে খেয়াল পরিবেশনা নিয়ে আসেন স্বয়ম সৌকর্য। খায়রুল আনাম শাকিল শুধ্ কল্যাণ রাগে খেয়ালে পরিবেশনা মুগ্ধতা ছড়ায় শ্রোতাদের হৃদয়ে। শিল্পী দীপ্র নিশান্ত রাগ কৌশিক ধ্বনিতে খেয়াল পরিবেশন করেন। শেখর মন্ডল পরিবেমন করেন রাগ রাগেশ্রী আর অনিন্দিতা সাহা শোনান রাগ বাগেশ্রী। দেবাশীষ শর্মা মালকোষ রাগে খেয়াল পরিবেশন করেন। সবশেষে রেজায়ান আলীর খেয়াল পরিবেশনা দিয়ে শেষ হয় প্রথম দিনের অধিবেশন।
আজ শুক্রবার সকাল নয়টায় শুরু হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। চলে বেলা ১২টা পর্যন্ত। এরপর বিকাল ৪টায় শুরু হয় তৃতীয় ও শেষ অধিবেশন। চলবে রাত দশটা পর্যন্ত।
নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষ পূর্তিতে মিলন কান্তি দে’র আবৃত্তি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষ উদযাপনে কবিতাটির আবৃত্তির আয়োজন করেছে সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা জ্যোতিপ্রকাশ। বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা সংলগ্ন কবির সমাধি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এই আবৃত্তির আসর।
অনুষ্ঠানে দ্রোহ, প্রেম, মানবতা ও বাঙালির মননের কবি নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন যাত্রা ব্যক্তিত্ব মিলন কান্তি দে। ভরাট কণ্ঠের দীপ্ত উচ্চারণে অনুষ্ঠানস্থলে দ্রোহের চেতনা ছড়িয়ে দেন যাত্রানট ও বাচিকশিল্পী মিলন কান্তি দে। প্রতিটি পংক্তির উচ্চারণ শেষে মুহুর্মুহু করতালিতে কবির অনুরাগী মিলন কান্তিকে অভিবাদন জানায় অনুষ্ঠানে আগত নজরুলপ্রেমীরা।
এরপর কবিতাপ্রেমীদের অনুরোধে মিলন কান্তি দে আরও চারটি কবিতা আবৃত্তি করেন। এর আগে দু’টি নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন শাহীনা পারভীন।
কবি মহসীন হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এস বি বিপ্লব, যাত্রাশিল্পী এম. আলীম, আলীনুর, জ্যোতিপ্রকাশের স্বত্তাধিকারি জাহাঙ্গীর আলম।
