ভারতে সাত মাস পর আবারও লাখ ছাড়িয়েছে করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা। একদিনের ব্যবধানে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ১০০ জন। এর আগে গত বছরের ৬ জুন ভারতে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৬০ জনের করেননা শনাক্ত হয়েছিল। ভারতে এখন পর্যন্ত করেননা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৫২ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৬ জনে।
এদিকে ভারতের দুইটি গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স এবং ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্সটিটিউটের (বেঙ্গালুরু) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনার সংক্রমণ এবার শীর্ষ চূড়ায় পৌঁছলে প্রতিদিন ১০ লাখ ভারতবাসী আক্রান্ত হতে পারেন। ঐ দুই সংস্থার বিজ্ঞানী অধ্যাপক শিব আত্রেয়া এবং রাজেশ সুন্দরসন সম্প্রতি ওমিক্রন নিয়ে তাদের গবেষণার ভিত্তিতে এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেই সাম্প্রতিক করোনা সংক্রমণ শীর্ষ চূড়ায় পৌঁছাবে। যার প্রভাব থাকবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত।
ভারতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে বৃহস্পতিবার আক্রান্ত হয়েছে ৩৬ হাজার ২৬৫ জন। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধভ ঠাকরে লকডাউন জারির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এই রাজ্যে এক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ৪২১ জন।
পশ্চিমবঙ্গের পরে আক্রান্তের সংখ্যায় রয়েছে যথাক্রমে দিল্লি (১৫ হাজার ৯৭), তামিলনাড়ু (৬ হাজার ৯৮৩) এবং কর্ণাটক (৫ হাজার ০৩১)। একই সঙ্গে ভারতে বাড়ছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা। দেশটিতে মোট ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৭ জন। গত বৃহস্পতিবার দেশটিতে ৩০২ জন করোনায় মারা গেছেন। মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কেরালায় ২২১ জন। মৃত্যুর সংখ্যা বিচারে দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গে। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের।
আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, আর কয়েক দিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজারে পৌঁছতে পারে। রাজ্যের এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলছেন, একটি বাড়িতে করোনা ঢুকলে প্রায় সকলেই আক্রান্ত হচ্ছেন। তাতে সংক্রমণের সংখ্যা হু হু করে বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। ফলে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ থেকে ৫০ হাজার হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আবার কলকাতার পজিটিভিটি রেট প্রায় ৪৪ শতাংশ। সেখানে আগামী দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে সংক্রমণ ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ভারত সরকার। এখন থেকে বিদেশ থেকে ভারতে যাওয়া যাত্রীদের সাত দিনের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও বাধ্যতামূলকভাবে সাত দিন বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এরপর আবারও পরীক্ষা করতে হবে। তখন করোনা পজিটিভ হলে আইসোলেশনে যেতে হবে। আগামী মঙ্গলবার থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
