সিনিয়র তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হয়েছে: সাকিব 

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৩৮

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সিনিয়রদের কদর বেশি। তরুণ ক্রিকেটাররা প্রত্যাশার দাবি মেটাতে পারছিলেন না। তাই মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের পর দেশে ভালো ক্রিকেটার তৈরি হয়নি বলেই আহাজারি সর্বত্র। যদিও এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে মনে করেন সাকিব আল হাসান। তার মতে, সুযোগ দিলে তরুণরাও দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

সাকিবের কথার জলন্ত প্রমাণ অবশ্য মাউন্ড মঙ্গানুই টেস্ট। সিরিজের প্রথম টেস্টে সাকিব-তামিম বিহীন তারুণ্যে ভরা বাংলাদেশ ইতিহাস গড়েছে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে। ৮ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।

বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্ট, বিপিএল খেলতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সাকিব। গতকাল এক বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। নিউজিল্যান্ডে প্রথম টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ, সাকিব-তামিম নেই, পারফরম করেছেন তরুণরা।

এ সম্পর্কে সাকিব বলেছেন, ‘এটা অবশ্যই ভালো লাগার দিক। মিডিয়া সবসময় যেটা মনে করে, আমরা চার-পাঁচ জন ছাড়া খেলোয়াড় নেই। তো সেটা ভুল প্রমাণ হলো, আমার ধারণা। তাদেরকে (অন্য ক্রিকেটারদের) যদি এভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারা ভবিষ্যতে আরো ভালো করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

অভাবনীয় জয়ে বছরটা শুরু করেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরে রয়েছে ব্যস্ত সূচি। সাকিব চাইছেন, বছরের বাকি সময়েও যেন ধারাবাহিকতা থাকে। গতকাল বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘বছরের শুরুটা যেভাবে হলো, অবিশ্বাস্য। দলের প্রতিটা খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফকে এর কৃতিত্ব দিতে হবে। সবাই যেভাবে চেষ্টা করেছে। কারণ আমাদের আগের বছরটি ভালো যায়নি। এ বছরটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শুরুটা যেহেতু এত ভালো হয়েছে। আশা করি, সামনে আরো ভালো কিছু করতে পারব।’

নিউজিল্যান্ড থেকে বরাবরই শূন্য হাতে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ। টানা ৩২ ম্যাচে হারের পর এসেছে অধরা জয়। অসাধ্য সাধন করেছে মুমিনুল বাহিনী। বিরুদ্ধ কন্ডিশনে এমন জয়ে পুরো দলকে কৃতিত্ব দিয়েছেন সাকিব।

গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আসলে সত্যি বলতে এতো ভালো ক্রিকেট খেলা খুব কমসময়ই বাংলাদেশ খেলে থাকে। প্রতিটি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফকে এই কৃতিত্বটা দিতে হয়। তারা এত চাপের মধ্যেও এরকম একটা কঠিন কন্ডিশনে গিয়ে এত ভালো খেলেছে।’

তবে ম্যাচটা না খেলার আক্ষেপ নেই সাকিবের। ব্যক্তিগত কারণে সফর থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে বসেই দেখেছেন মুমিনুলদের জয়। তিনি বলেছেন, ‘না! আমি বরঞ্চ অনেক বেশি খুশি হয়েছি যে, আমি ছাড়াও... শুধু আমি ছাড়া না, আমি থাকা না থাকা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে হয় না। যেটা গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের দলটা খেলছে এবং কেমন করছে। তো সেদিক থেকে আমি খুবই খুশি, খুবই গর্বিত প্রতিটা খেলোয়াড়, প্রতিটা কোচিং স্টাফের ওপর।’

ইত্তেফাক/কেকে