নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে কারুশিল্পীদের দোকান বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ফাউন্ডেশন কতৃর্পক্ষের বিরুদ্ধে। কারুশিল্পীদের নামে বরাদ্দকৃত দোকান মামলা নিষ্পত্তি না করেই একটি দোকান ভেঙে দুটি দোকান তৈরি করে ১২ জনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে দোকান বরাদ্দে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা ১৩ কারুশিল্পী বঞ্চিত হয়।
মামলা করার অজুহাতে তাদের দোকান বরাদ্দ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে কারুশিল্পীরা অভিযোগ করেন। গত ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর বেঞ্চে ১৩ কারুশিল্পীর পক্ষে সেলিনা আক্তার রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিট পিটিশনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়। আদালতে রিট পিটিশনের পর ফাউন্ডেশন কতৃর্পক্ষ প্রথম দফায় গত ২০২১ সালের ১২ মার্চ দুটি দোকান ভাঙচুর করে। দ্বিতীয় দফায় ১২ ডিসেম্বর ছয়টি দোকান ভেঙে ১২টি দোকান করে ১৪ ডিসেম্বর ১২ জনের মধ্যে বরাদ্দ দেয়। দোকান ভাঙায় ফাউন্ডেশনের কারুশিল্পীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জানা যায়, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের অভ্যন্তরে কারুশিল্পীদের তৈরি কারুপণ্য বিপণনের জন্য ফাউন্ডেশন কতৃর্পক্ষ কারুপল্লি স্থাপন করে। ঐ কারুপল্লিতে ৩৫টি দোকান ছিল। পরে কারুপল্লি জরাজীর্ণ হওয়ায় ২০১২ সালে পুনরায় ৪৮ দোকান তৈরি করে কারুশিল্পীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ সময় ২০ প্রকৃত কারুশিল্পী দোকান বরাদ্দ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। বরাদ্দ না পেয়ে তারা ২০১৩ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। পরে ২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি কারুশিল্পীদের পক্ষে রায় দেয় আদালত। ফাউন্ডেশন কতৃর্পক্ষ ২০ কারুশিল্পীকে দোকান বরাদ্দ দিলেও বাকি ২৮টি দোকান থেকে ফের ১৩ কারুশিল্পীকে দোকান বরাদ্দ দিতে গড়িমসি শুরু করে। এ অবস্হায় ১৩ কারুশিল্পী রিট পিটিশন দায়ের করেন।
কারুশিল্পী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ফাউন্ডেশন কতৃর্পক্ষ আমাদের দোকান বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দ দিয়েও আমাদের দোকান বুঝিয়ে দেয়নি। উচ্চ আদালতে মামলা করায় আমাদের দোকান ভেঙে দেয়।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক রবিউল ইসলাম জানান, কারুপল্লিতে এখনো ১২টি দোকান রয়েছে। উচ্চ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছি। রায় পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
