হকি :পুরো বছর টার্ফে খেলা থাকতেই হবে

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৪০

এশিয়ান হকি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে উপমহাদেশের হকির কঙ্কাল স্পষ্ট হয়েছ। দক্ষিণ কোরিয়া আর জাপান ফাইনাল খেলছে আর হকি-মুঘলরা তৃতীয়/ চতুর্থ হবার জন্য দিগ্বিদিক হাতড়াচ্ছে। ভারত শেষকালে পাকিস্তানকে অষ্টরম্ভা দেখিয়ে ব্রোঞ্জ নিয়ে তৃপ্ত। দেশ ছিল পাঁচটি। আমরা পঞ্চম। স্বদেশ, আপন দর্শক, নিজস্ব মাঠ, জন্ম থেকে পরিচিত পরিবেশ তারপরও ‘ধ্যাত্তেরি’ ফলাফল। কারণ কর্তাদের পরাজিত মনোভাব দলকে নিরুত্সাহিত করার ‘মালমশল্লা’তে বোঝাই ছিল।

যা গিয়েছে যাক, এখন হকি ফেডারেশন স্বাধীনতা টুর্নামেন্ট, জাতীয় যুব তারপর প্রথম বিভাগ লীগ করবে। বহুত আচ্ছা। তবে এশিয়ান হকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ‘পোস্ট মর্টেম’ করা তো দরকার।

এই মুহূর্তে জাতীয় দলকে পেনাল্টি কর্নার, পেনাল্টি পুশ, সু্যট-আউট আর লম্বা এ্যারিয়ল বল পাঠানোর সক্ষমতা অর্জন এমন ভাবে করানো দরকার, যাতে গোল না খাবার প্রতিজ্ঞার সঙ্গে যে কোনো পেনাল্টি মানেই ৯০ ভাগ সাফল্য ।’৮৫ সালে জাপানের বিরুদ্ধে পেনাল্টি পুশ পেলাম, কে মারবে ! আমি ক্যাপ্টেন । জুম্মন বলল, গুরু, আমি মারি, কাঞ্চন বলল,ওঁর স্টিক অনেক মোটা, আমি মারি , আমি বললাম, না, মালেক চুন্নু মারবে। আমার দলের সাত/আট জন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পেনাল্টি পুশে সক্ষম ছিল। চুন্নুর পুশটাতে জোড় ছিল না তবে গোল কিপার আগেই ডান পাশে ঝাঁপিয়ে ছিল আর বাম পাশ দিয়ে বল জালে জড়ায়। আমি কাঞ্চনকে পুশে পাঠাতে পারতাম, তবে হয়তো জুম্মন মনক্ষুণ² হতো, যার ছাপ খেলাতে পড়তেও পারত ।

দলে স্পেশালিস্ট থাকতেই হবে তবে, অন্যদের তার কাছাকাছি হতেই হবে। কেননা এরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে। আমরা টার্ফে খেলা চালাচ্ছি বলে তুষ্ট হবার কিছু নেই, এশিয়ন চ্যাম্পিয়নসের সাত দিন আগেও জাতীয় দলের অনুশীলন না করিয়ে লীগ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। শুধু খেলোয়াড় নয়, আন্তর্জাতিক মানের আম্পায়ার আরো তৈরি করতে হবে। স্বাধীনতা দিবস হকি খেলবে সেনা নৌ বিমান পুলিশ আর বিকেএসপি। সব হকির খেলোয়াড় এ পাঁচ দলেই ভাগ-বাঁটোয়রা হয়ে যাবে, এর কারণ হলো জেলা পর্যায় হকিতে অনাগ্রহ। ক্রিকেটে বিপুল টাকা, ফুটবলও বছর চালানোর মতন টাকা পায় আর হকিতে, ১০ লাখ একদম স্বল্পসংখ্যক, আর ২/৩ লাখ গরিষ্ঠ ভালোরা। সংসার সামলানোর প্রতিশ্রুতি, দায়িত্ব ক্রিকেট, ফুটবলের মতো হকি খেলোয়াড়দেরও আর তখনই প্রকট ভাবে উজ্জ্বল হয় কতখানি অসচ্ছল হকি খেলোয়াড়েরা।

হকির প্রচার, প্রসার এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি করেও বিন্দুমাত্র এগিয়ে নিতে পারে নাই, কর্তারা শুধু টুর্নামেন্টটা শেষ করার ‘ধনুর ভংগ’ পণ করেছিল। শেষ করেছেও। হকিতে টাকা নাই, প্রচার নাই, স্পন্সর আসে না। আর কতকাল , এবার একটা লটারি করতে পারলে দুটোই আদায় হয়। করবেন নাকি!

লেখক : সাবেক জাতীয় ও সেনাবাহিনী হকি দল অধিনায়ক এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। 

ইত্তেফাক/ ইআ