‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন অর্থনীতিতে স্বাবলম্বী’

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:১০

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে স্বাবলম্বী হওয়ায় লক্ষ্মীপুরে ৩ হাজার ৮৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বে অর্থনৈতিক ভাবে ২৫তম দেশে অবস্থান করবে বাংলাদেশ।

রবিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মাতাব্বর হাটে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন প্রতিরোধে নির্মাণাধীন বেড়ী বাঁধের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমি নিজেও নদী ভাঙন এলাকার মানুষ। নদী ভাঙনের শিকার মানুষের কষ্ট আমি বুঝি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নদী ভাঙন কবলিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করছি। মানুষ যখন ঘুমায়, তখন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলীরা রাত জেগে জনগণের জন্য কাজ করে। এ জন্য তাদের কাজে উৎসাহ দিতে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে উন্নত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনাই পারে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে। মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে মেঘা এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে একটিকে ঘিরে পর্যটন এলাকা হবে লক্ষ্মীপুরের দুই উপজেলা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন,  বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী ফজলুর রশিদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিয়ন) প্রকৌশলী অখিল কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, সহকারী পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান, কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন মাষ্টার প্রমুখ। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ৩০ বছরে মেঘনা নদীর ধারাবাহিক ভাঙনে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার প্রায় ২৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ সময় ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক বাসিন্দা। 

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীর বড়খেরী, লুধুয়াবাজার এবং কাদিরপন্ডিতেরহাট বাজার তীররক্ষা প্রকল্প নামের ৩৩.২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকল্পটি ২০২১ সালের ১ জুন পাস করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। গত বছরের ১৭ আগস্ট ই-জিপি টেন্ডার পোর্টাল এবং ১৮ আগস্ট পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। টেন্ডার অনুসারে প্রায় শতাধিক লটের মাধ্যমে মোট ৩ হাজার ৪০০ মিটার কাজ হবে। রবিবার দুটি লটের কাজ উদ্বোধন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

তবে উপকূলীয় বাসিন্দাসহ লক্ষ্মীপুরবাসীর দাবি ছিল- ঠিকাদারের মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ না করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাঁধটি নির্মাণ করার। এজন্য বিভিন্ন সময়ে তারা আন্দোলন এবং মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন।  

ইত্তেফাক/এমএএম