‘এ দেশের মানুষ শৌখিন। তারা প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে শখের জিনিস কেনেন।’ ভাঙা ভাঙা বাংলায় কথাগুলো বলছিলেন বাণিজ্য মেলার তুর্কি প্যাভিলিয়নের অরিজিনাল ইস্তাম্বুল ক্রিস্টালের মালিক সিহান জামুর। তিনি তার পিতা সিমাল জামুরকে সঙ্গে নিয়ে মেলায় স্টল দিয়েছেন। তারা আলোকসজ্জার উপকরণাদি ও কসমেটিকস বিক্রি করছেন। এখন পর্যন্ত মেলায় বিক্রি নিয়ে তারা সন্তুষ্ট বলে জানান। এদিকে এবার নিয়ে অষ্টমবারের মতো মেলায় স্টল দিয়েছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের ডব্লিউএ ইন্টারন্যাশনাল স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ রাশেদ। তার স্টলে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন মেশিনারিজ বিক্রি করা হচ্ছে। পূর্বাচলে স্থায়ী কমপ্লেক্সে বাণিজ্য মেলা কেমন হচ্ছে—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের মেলা গ্রামীণ এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশে বসেছে। সবদিক দিয়ে সুন্দর। প্রথম কয়েক দিনের তুলনায় এখন ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে বলে জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার মেলায় ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, থাইল্যান্ড, ইরান, কোরিয়া ও জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১০টি স্টল রয়েছে। অথচ এর আগের বাণিজ্য মেলাগুলোতে ২৫ থেকে ৩০টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিত। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করোনা মহামারির কারণে এবার বাণিজ্য মেলায় বিদেশি স্টলের সংখ্যা কমেছে। গতকাল বাণিজ্য মেলায় গিয়ে দেখা যায়, বিদেশি স্টলগুলোতে শীতবস্ত্র, কসমেটিকস, হারবাল পণ্য, খেলনা, আলোকসজ্জার সরঞ্জামাদি, পারিবারিক তৈজসপত্র, বোরকা, জামা, শাড়ি, শো-পিস ও গৃহস্থালির পরিষ্কারক যন্ত্রপাতি বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এসব স্টলে কেউ কেউ পণ্য কিনতে বিদেশিদের কথা বুঝতে না পেরে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। পরে অবশ্য স্টলের দেশীয় বিক্রয় প্রতিনিধিরা এগিয়ে এসে সহযোগিতা করছেন।
জাপানের ডিএইচই প্যাভিলিয়নের স্বত্বাধিকারী জান্নাতুল ফেরদৌস শান্তা বলেন, জাপানিজ কসমেটিকস ও হারবাল পণ্যের চাহিদা এখানে বেশি। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তরুণরা জাপানিজ কসমেটিকসের ক্রেতা। দাম ক্রয়সীমার মধ্যে। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। ভারত থেকে আসা কাশ্মীরি শালের স্টলের স্বত্বাধিকারী ফজল আহমেদদার ভাঙা ভাঙা বাংলায় বলেন, এখন শীত মৌসুম। তাই কাশ্মীরি শালের চাহিদা বেশি। গত শুক্র ও শনিবারের পণ্য বিক্রিতে ব্যবসার লোকসানের ঝুঁকি কেটে গেছে বলে জানান তিনি।
এদিকে মেলায় বিদেশি পণ্যের নামে নকল ও নিম্নমানের পণ্য কেউ কেউ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গতকাল ঢাকার রামপুরা থেকে মেলায় আসা নাছির মিয়া বলেন, বিদেশি পণ্যের নামে কেউ নকল পণ্য বিক্রি করছে কি না তা খেয়াল রাখতে হবে। নরসিংদী জেলার পলাশ থেকে আসা ইমন মিয়া বলেন, তার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়~য়া দুই মেয়ে বিদেশি পণ্য ও জামা পছন্দ করে। মেয়েদের পছন্দের জামা ও কসমেটিকস তিনি ক্রয় করেছেন বলে জানান। বাণিজ্য মেলার আয়োজক ইপিবির সচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, দেশি পণ্যের পাশাপাশি বিদেশি পণ্য মেলাকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। বিদেশিরা মেলায় অংশ নেওয়ায় মেলাটি এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় নামকরণ সার্থকতায় এসেছে।
