বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ছড়ানো করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট ও বন্দরে সতর্কতার কোনো ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। দায় সারা দায়িত্ব পালন করছে সবাই। এখানে ভারত থেকে আসা যাত্রীদের ঠিকঠাকভাবে স্ক্রিনিং করার কোনো ব্যবস্থা নেই। যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপার থার্মাল স্ক্যানার থাকলেও সেটি মনিটরিং করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
বেনাপোল বন্দরে ভারত থেকে আসা অধিকাংশ ট্রাক ড্রাইভার এবং খালাসির মুখে মাস্ক নেই। আমদানিকৃত পণ্যবোঝাই ট্রাক রেখে দিব্যি তারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন বন্দরের অভ্যন্তরে। সরজমিনে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার সময় এ প্রতিবেদক এমন দৃশ্য দেখতে পান বন্দরের অভ্যন্তরে। এ সময় ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার কৃষ্ণ অধিকার যার ট্রাক নম্বর ৪৮৭৩ এবং ভদ্রেস্বর ঘোষ যার ট্রাক নং ৮৫১২ জানান, আমাদের কাছে কোন মাস্ক নেই। আজ কিনব। তাছাড়া জিরো পয়েন্ট দিয়ে আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে যে সব ট্রাক ভারত থেকে আসছে সেসব ট্রাকে জীবাণুনাশক কোন স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে না।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক মামুন কবীর বলেন, ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকগুলোতে জীবাণুনাশক স্প্রে করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আবার চালু করা হবে। ট্রাক চালক ও হেলপারদের মাস্ক ব্যবহারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তারা মানছে না। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখন থেকে শুধু ট্রাকের চালক ভারতীয় ট্রাক নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করবে। কোনো খালাসি প্রবেশ করবে না।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাজু আহমেদ বলেন, ভারত থেকে আসা প্রত্যেক যাত্রীকে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে প্রবেশের আগে মাস্ক ব্যবহার ও সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাক্স ছাড়া কাউকে ইমিগ্রেশনের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু এমন দৃশ্য এই প্রতিবেদকের নজরে পড়েনি।
বেনাপোল চেক পোস্টে দায়িত্বরত মেডিক্যাল অফিসার ডা. আশরাফুজ্জামান জানান, আমি একটি মিটিংয়ে অফিসের বাইরে আছি। ওমিক্রন নিয়ে সরকারিভাবে কোনো দিকনির্দেশনা আসেনি। তবে পাসপোর্ট যাত্রীদের ডিজিটাল স্ক্যানিং মেশিনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু এমন দৃশ্যও দেখা যায়নি সরজমিনে গিয়ে। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলী জানান, করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট ও বন্দর এলাকায় নতুন করে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সরকারিভাবে কোনো দিকনির্দেশনাও পাইনি। তবে করোনা ভাইরাসের সময়কালে যে কার্যক্রম ছিল সেটিই এখনো চলমান আছে।

করোনায় আক্রান্ত শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়